AdvertisementAdvertisement

যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ অঙ্গরাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী প্রাথমিক নির্বাচন আজ

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস, মিসৌরি, ভার্জিনিয়া, মিশিগান এবং ওয়াশিংটন—এই পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনী প্রাইমারি। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের জন্য রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী বাছাইয়ের এই প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের জন্য প্রয়োজন অতিরিক্ত তিনটি আসন এবং সিনেটের লড়াইয়ে দরকার চারটি আসন। একই সঙ্গে এই নির্বাচন ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব এবং গাজা যুদ্ধসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরকার আদর্শিক বিভাজনকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

কানসাসে এবারের মূল আকর্ষণ গভর্নরের পদ। লরা কেলি দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে না পারায় এই আসনটি এখন উন্মুক্ত। ট্রাম্প সমর্থিত সিনেট প্রেসিডেন্ট টাই মাস্টারসনসহ রিপাবলিকান দলের সাতজন মনোনয়ন প্রত্যাশী লড়াইয়ে রয়েছেন। তবে নির্বাচনী সত্যতা নিয়ে ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা করে আলোচনায় আসা সেক্রেটারি অব স্টেট স্কট শ্যাবাব মাস্টারসনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইথান করসন এবং সিন্ডি হোলশার মেয়র কার্ট স্কুগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, তৃতীয় কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্র্যাট শারিস ডেভিডসকে নিজের আসন ধরে রাখতে লড়তে হচ্ছে প্রগতিশীল প্রার্থী সারা প্রু-এর চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

মিসৌরির প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকানদের নতুন মানচিত্র অনুযায়ী, ওয়েসলি বেল এবং কোরি বুশের মধ্যে লড়াইটি এখন তুমুল উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি হামলা নিয়ে বুশের স্পষ্ট অবস্থান এবং ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্বের সঙ্গে তার দূরত্ব এই লড়াইকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে এআইপিএসি সমর্থিত গোষ্ঠী বেলের পক্ষে প্রায় ৩১ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। ফলে এটি কেবল একটি নির্বাচনী লড়াই নয়, বরং দলের মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে প্রগতিশীল ধারার আদর্শিক সংঘাতের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ভার্জিনিয়ার নির্বাচনে নজর থাকবে প্রতিনিধি পরিষদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের দিকে। দ্বিতীয় ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান জেন কিগানস এবং ডেমোক্র্যাট এলাইন লুরিয়ার মধ্যে লড়াইটি বেশ হাড্ডাহাড্ডি হতে যাচ্ছে। লুরিয়া ক্যাপিটল হিল হামলার তদন্ত কমিটির সদস্য হওয়ায় এই আসনটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সপ্তম ডিস্ট্রিক্টে ইউজিন ভিন্ডম্যান নিজের অবস্থান ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট মার্ক ওয়ার্নারের শক্ত অবস্থানের বিপরীতে রিপাবলিকান প্রার্থীরা বড় ধরনের কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ওয়াশিংটনের ‘টপ-টু’ প্রাইমারি পদ্ধতিতে ভোটের লড়াই কিছুটা ভিন্ন। তৃতীয় ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্র্যাট মেরি গ্লুসেনক্যাম্প পেরেজ এবং ট্রাম্প সমর্থিত জন ব্রাউনের মধ্যকার লড়াইকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, নবম ডিস্ট্রিক্টে অ্যাডাম স্মিথের বিরুদ্ধে লড়ছেন সমাজতান্ত্রিক প্রার্থী ক্ষামা সাওয়ান্ত এবং মেলিসা চৌধুরী। গাজা ইস্যু, সামরিক বাজেট এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এই নির্বাচনের ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো মার্কিন রাজনীতি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%