জাপানের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন, ওকিনাওয়ায় সতর্কতা জারি

প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’। বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসরমান এই বিশাল ঝড়টি চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে চীনের উপকূলীয় এলাকা এবং তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জুম আর্থের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর ৫টা নাগাদ টাইফুনটির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার। গত ২৬ জুলাই মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় নিম্নচাপ হিসেবে এর জন্ম হয়। দীর্ঘ কয়েক হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার সময় এটি ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় এবং গত ২৮ জুলাই একটি শক্তিশালী টাইফুনের পর্যায়ে পৌঁছায়। এর আগে ওগাসাওয়ারা দ্বীপপুঞ্জ বা বোনিন দ্বীপপুঞ্জে বাতাসের তীব্র দাপট দেখিয়ে এটি জাপানের মূল ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে আসছে।
জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর ওকিনাওয়ার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ১৪ লাখ মানুষের বসতিপূর্ণ এই দ্বীপে ঝড়ের প্রভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের উপকূল থেকে নিরাপদ দূরত্বে আশ্রয় নেওয়া এবং ঘরবাড়ি সুরক্ষিত করার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
হংকংয়ের চীনা সাদা ডলফিনের নামানুসারে এই টাইফুনের নামকরণ করা হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার টাইফুন কমিটি সাধারণত এ অঞ্চলের ঝড়ের নাম নির্ধারণ করে থাকে। গত মাসে টাইফুন ‘বাভি’ চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে আঘাত হানার পাশাপাশি ওকিনাওয়া অঞ্চলেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছিল। এছাড়া গত সপ্তাহে টাইফুন ‘নাউল’-এর প্রভাবে দক্ষিণ চীনে কয়েক লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়, হ্যারিকেন এবং টাইফুন মূলত একই প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তবে ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে এদের ভিন্ন ভিন্ন নাম দেওয়া হয়। উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপন্ন ঝড়গুলোকে সাধারণত টাইফুন বলা হয়, যা মূলত মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। বাতাসের তীব্রতা এবং গতির ওপর ভিত্তি করে এর শ্রেণিবিভাগ করা হলেও ডলফিনের মতো শক্তিশালী ঝড় মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জাপান প্রশাসন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
