ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া ১১২ ফিলিস্তিনির গণকবর গাজায়

ইসরায়েলের চলমান ভয়াবহ সামরিক অভিযানের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ১১২ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ শেষ পর্যন্ত গাজা সিটিতে সমাহিত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা আবু শারিয়া এবং আল-হাসায়না পরিবারের সদস্যদের এই গণজানাজা ও দাফন প্রক্রিয়াকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার গাজার সাবরা এলাকায় আয়োজিত এই শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে হাজারো শোকার্ত মানুষ অংশ নেন।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর ইসরায়েলি বিমান হামলায় এই দুই পরিবারের অন্তত ৩০৮ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ৪০ জন শিশু, ৩০ জন নারী এবং সাতজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ছিলেন। উদ্ধারকর্মীরা সম্প্রতি ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১২টি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হলে স্বজনরা তাদের দাফনের সুযোগ পান। তবে এখনো ১৫৭ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, যারা সম্ভবত বিধ্বস্ত ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছেন অথবা নিখোঁজ রয়েছেন।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এই আয়োজনকে গাজার যুদ্ধের ভয়াবহতার এক অনন্য ও বেদনাদায়ক প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের মহাসচিব মুস্তফা বারঘৌতি একে ফিলিস্তিনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জানাজাগুলোর একটি বলে অভিহিত করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে স্বজনরা খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে প্রিয়জনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়েছেন, যা এই মানবিক সংকটের গভীরতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরের তথ্য মতে, কেবল আবু শারিয়া পরিবারেরই প্রায় ২০০ জন সদস্য এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় অনেকের মরদেহ এরই মধ্যে পচন ধরেছে। এদিকে, ফিলিস্তিনি গোত্র ও পরিবারগুলোর জোট পশ্চিমা সমর্থিত শান্তি পরিষদের কাছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ দ্রুততর করার এবং নিখোঁজদের সন্ধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী সামরিক আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৩৭৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭৪ হাজার ২২০ জন আহত হয়েছেন। গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো এই হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। চলমান অস্থিরতার মাঝেও এই গণদাফন ফিলিস্তিনিদের ওপর নেমে আসা অবর্ণনীয় কষ্টের এক নীরব সাক্ষী হয়ে রইল, যেখানে নিখোঁজ হাজারো মানুষের স্বজনরা এখনো তাদের শেষ আশ্রয়ের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
