AdvertisementAdvertisement

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার দৌড়গোড়ায় ইরান ও ওমান টানটান উত্তেজনা মার্কিন অবস্থানে

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার শর্ত নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আল জাজিরা এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও ওমান তাদের জলসীমা দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নতুন করিডোর তৈরির বিষয়ে প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে সমঝোতার প্রক্রিয়াটি সফল হওয়ার পথে রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, কেবল ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করলেই এই জলপথ আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়ে যাবে না। তেহরানের ভাষ্যমতে, যতক্ষণ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখবে এবং জলসীমায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই সংকট নিরসনের সম্ভাবনা ক্ষীণ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর অবস্থানে অটল। মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরান কোনো ধরনের টোল আদায় বা জাহাজের ওপর বাড়তি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারবে না। ওয়াশিংটন চায় কোনো প্রকার পূর্বানুমতি বা ফি ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো অবাধে এই পথ ব্যবহার করুক। বিশ্বব্যাপী আটটি বৃহৎ শিপিং অ্যাসোসিয়েশনও জাতিসংঘের কাছে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, ইরান কর্তৃক শুল্ক আরোপের যেকোনো প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের লঙ্ঘন এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান এই টানাপোড়েন কেবল জ্বালানি তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে না, বরং এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের একটি নতুন মোড়। কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি মনে করেন, ওয়াশিংটনকে বাস্তবতার নিরিখে আপস করতে হতে পারে। কারণ বিশ্ব জ্বালানি সংকটের মুহূর্তে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, নতুন পরিকল্পনায় জাহাজগুলো ইরান ও ওমানের জলসীমা দিয়ে চলাচল করবে। তবে ইরান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে যে, উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনের সীমানার মধ্যে তাদের অধিকার রক্ষা করতে হবে। যদিও আল জাজিরার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এই চুক্তির ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান তার কৌশলগত প্রভাব সহজে ছেড়ে দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। বর্তমানে উভয় পক্ষই একটি জটিল কূটনৈতিক সমীকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে একটি অস্থায়ী রুট চালুর সম্ভাবনা থাকলেও স্থায়ী শান্তি এখনো অধরা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%