অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান: সাংবাদিক নির্যাতন ও সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত

অধিকৃত পশ্চিম তীরের কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক অভিযানে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কুদস নিউজ নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ইসরায়েলি সেনারা এলাকাটিতে একটি বড় আকারের সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়ে লিফলেট বিতরণ করে। অভিযানের সময় একটি গাড়ি ধোয়ার কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া এক সাংবাদিক ইসরায়েলি সেনাদের কঠোর পিটুনির শিকার হয়েছেন। এছাড়া, এক যুবককে সামরিক যান দিয়ে চাপা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, তবে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, সশস্ত্র সেনারা নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ঘিরে ফেলে মাটিতে আছড়ে ফেলছে। এমনকি ফজরের নামাজের সময় মসজিদগুলোতে আজান ও নামাজ আদায়েও বাধা প্রদান করেছে দখলদার বাহিনী।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পশ্চিম তীরে প্রতিদিন গড়ে ৫০টি অভিযানের ঘটনা ঘটছে। দখলদার বাহিনীর এসব কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য স্থানীয়দের ভীতসন্ত্রস্ত রাখা এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য এলাকাটিকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলা। মানবাধিকার সংস্থা বি’সেলেম সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বসতিগুলোতে নিয়মিত আগ্রাসন চালানো হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, কালান্দিয়া শিবিরের প্রবেশপথগুলো বড় বড় পাথর ফেলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ‘দ্য ক্রেডল’ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে শিবিরের সমস্ত চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জেনিন ও তুলকারেমের মতো শরণার্থী শিবিরগুলোতে সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন, যা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, ইসরায়েলের এসব কর্মকাণ্ড জাতিগত নির্মূল অভিযানের শামিল হতে পারে। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ইসরায়েলের কট্টরপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির এবং বেজালেল স্মোত্রিখ নিয়মিত সহিংসতায় উস্কানি দিচ্ছেন, যার ফলে বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশে তাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
