AdvertisementAdvertisement

হরমুজ প্রণালী সচল করতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে

হরমোজ প্রণালীর অচলাবস্থা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ওমান একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রশমনে আশার সঞ্চার করেছে। রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে এই প্রস্তাবিত চুক্তিটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে।

বর্তমান আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো জুন মাসের ১৭ তারিখে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর করা। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যে প্রণালী দিয়ে প্রবাহিত হয়, সেই কৌশলগত জলপথ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মিটিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৃহত্তর কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করাই এই প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার কথা অস্বীকার করলেও, ওমানের মাধ্যমে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ওমান দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মার্কিন সামরিক হুমকি এখনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওমানের জলসীমায় একটি কার্গো জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমোজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত, সোমবার সেখানে মাত্র ৮টি জাহাজ যাতায়াত করতে পেরেছে। এই দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে মাশুল আদায়ের বিতর্কিত বিষয়টি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলো ইরানের জলসীমার উত্তরের রুট ব্যবহার করবে এবং উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা জাহাজগুলো ওমানের উপকূলীয় দক্ষিণ রুট দিয়ে যাতায়াত করবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাটি ৬০ দিন কার্যকর থাকবে এবং এই সময়ের মধ্যে কোনো ধরনের ট্রানজিট ফি নেওয়া হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, কোনোভাবেই ইরানের কাছে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বা মাশুল আদায়ের ক্ষমতা দেওয়া হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমোজ প্রণালীর এই সংকট নিরসন হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী মতপার্থক্য সহসাই মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক সংঘাত এবং ইয়েমেনের হুথিদের কার্যক্রমের মতো বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। তাই হরমোজ চুক্তি একটি ইতিবাচক সূচনা হিসেবে গণ্য হলেও, এটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কেবল একটি প্রাথমিক ধাপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%