AdvertisementAdvertisement

ইরানে গণবিক্ষোভ দমনে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের হিড়িক, গভীর উদ্বেগে জাতিসংঘ

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী অসন্তোষ দমনে রাষ্ট্রযন্ত্রের হাতিয়ার হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, গত ১৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ৫৬ জনকে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি ঘটনাই সরাসরি বছরের শুরুতে ঘটে যাওয়া দেশজুড়ে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেছেন, সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সঞ্চার ও ভিন্নমত দমনের কৌশল হিসেবে ইরান সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে। তিনি অবিলম্বে সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করে আইনটি বাতিলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের তথ্যমতে, আরও ১০০ জনেরও বেশি মানুষ একই ধরনের নিরাপত্তা অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হারও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইরানের বিচারব্যবস্থায় পদ্ধতিগত ত্রুটি এবং ন্যায়বিচারের অভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মতে, অনেক ক্ষেত্রেই নির্যাতনের মুখে আদায় করা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এই মৃত্যুদণ্ডগুলো দেওয়া হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা ও দ্রুততা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে; যেখানে মাত্র তিন ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার শুনানির পর ১২ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের জুলাই মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে ইরানজুড়ে অর্থনৈতিক ধসের কারণে রিয়ালের অবমূল্যায়ন ও নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হলে ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়। সেই আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে ও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ইরান কর্তৃপক্ষ এই মরণঘাতী পথ বেছে নিয়েছে। রেভল্যুশনারি কোর্টগুলোর মাধ্যমে যথাযথ আইনি সুরক্ষা ছাড়াই নির্বিচারে এই মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হচ্ছে।

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও তেহরান তা বরাবরই নাকচ করে আসছে। ইরান সরকারের দাবি, মৃত্যুদণ্ড একটি আইনি ব্যবস্থা, যা দেশের নিজস্ব আইন কাঠামো ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োগ করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দেশটিতে নির্বিচারে আটক ও বিতর্কিত দণ্ডবিধি সংশোধনের আহ্বান অব্যাহত রেখেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%