দখলকৃত পশ্চিম তীরের ঐতিহাসিক স্থাপনায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে বিশাল বরাদ্দ ঘোষণা

দখলকৃত পশ্চিম তীরের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১১ কোটি ৩০ লক্ষ শেকেল বা প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ। মঙ্গলবার ইসরায়েলি সরকারি স্টিয়ারিং কমিটির অনুমোদন পাওয়া এই বিশাল অংকের অর্থ দিয়ে অঞ্চলটির ৭০টিরও বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তেল আবিব।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে পশ্চিম তীর, জর্ডান উপত্যকা এবং জেরুজালেম মরুভূমির প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো কব্জা করার জন্য ২৫ কোটি শেকেল বা ৮ কোটি ৩০ লক্ষ ডলারের যে মহাপরিকল্পনা গৃহীত হয়েছিল, নতুন এই বরাদ্দ তারই ধারাবাহিকতা। কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, দেশটির বসতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সরাসরি ১৫ কোটি ৭০ লক্ষ শেকেল বা ৫ কোটি ২০ লক্ষ ডলারের তহবিল পাবে, যার সাথে আরও ১৪ কোটি ২০ লক্ষ শেকেল বা ৪ কোটি ৭০ লক্ষ ডলারের প্রতিশ্রুতিমূলক অর্থ যুক্ত রয়েছে।
একই দিনে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট বা নেসেটের অর্থ বিষয়ক কমিটি বসতি মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রায় ৩০ কোটি শেকেল বা ৮ কোটি ৩০ লক্ষ ডলারের আলাদা আরেকটি অনুদান ও প্রতিশ্রুতি অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা রাজনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্মোতরিচ একে ‘সর্বোচ্চ স্তরের জায়নবাদী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেখানে নতুন পর্যটন কেন্দ্র এবং গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে ইহুদি ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে তুলে ধরার পাঁয়তারা চলছে।
দখলকৃত পশ্চিম তীরে হাজারো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে, যার অনেকগুলোই কয়েক শতাব্দী প্রাচীন। যদিও স্মোতরিচ নির্দিষ্ট কোনো স্থানের নাম প্রকাশ করেননি, তবে ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেথলেহেমের নিকটবর্তী ‘সলোমন’স পুলস’-এর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকেই এখন মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরা হচ্ছে। ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ১০৪টি বসতি এবং ১৬০টি আউটপোস্টের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্মোতরিচ।
আন্তর্জাতিক আইনে এই বসতি স্থাপনকে অবৈধ ঘোষণা করা হলেও ইসরায়েল তার কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। এদিকে ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত সেখানে ১১ হাজারেরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ওই অঞ্চলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
