AdvertisementAdvertisement

দখলকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের দৌড় ও সহিংসতা নিয়ে ইসরায়েলি রাজনীতিতে উদ্বেগ

অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের তৎপরতা চরম আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই অঞ্চলটিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করতে উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং অবৈধ বসতি নির্মাণের হার বর্তমানে সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় পশ্চিম তীরের সামরিক প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তরের মাধ্যমে এই দখলদারিত্বকে আরও গভীরে প্রোথিত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বর্তমান জোট সরকারের তত্ত্বাবধানে ১০৪টি অবৈধ বসতি এবং প্রায় ১৬০টি বসতি খামার স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নেওয়া ‘ই-১’ প্রকল্প ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে চিরতরে কবর দেওয়ার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে বলে প্রচার চালানো হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিম্রোড ফ্লাশেনবার্গের মতে, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার অনিশ্চয়তায় থাকা স্মোট্রিচ এবং তার কট্টরপন্থী দল এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে তারা উগ্র জাতীয়তাবাদী আবহে বসতি সম্প্রসারণকে নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে এই কট্টরপন্থীদের তোষণ করে চলছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের তথ্য এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর আক্রমণ ও নির্যাতনের ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের ‘কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন’-এর তথ্যমতে, কেবল জুলাই মাসেই ফিলিস্তিনিদের ওপর ২ হাজার ২৫৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৪৫৮টি হামলা সরাসরি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং ৭৯৮টি বসতি স্থাপনকারীরা চালিয়েছে। বি’সেলেম নামক ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি ইয়ার ডিভির দাবি করেছেন, এই সহিংসতা শুধু সংখ্যার দিক থেকেই বাড়ছে না, বরং এর নিষ্ঠুরতা এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাও নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নেতানিয়াহুর সরকার তার রাজনৈতিক জোট টিকিয়ে রাখতে এই চরমপন্থাকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করেন চ্যাথাম হাউসের বিশেষজ্ঞ ইয়োসি মেকেলবার্গ। তিনি বলেন, আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর মতো বসতি স্থাপনকারীদের ক্ষেত্রে কোনো আপস করার সুযোগ নেই, কারণ তাদের অবস্থান অত্যন্ত দ্বিমুখী। এই রাজনৈতিক সমীকরণে ফিলিস্তিনিদের জীবন ও নিরাপত্তা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং দখলদারিত্বের কবলে পুরো পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%