পূর্ব এশিয়ায় নজিরবিহীন দাবদাহে প্রাণহানি বাড়ছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা

পূর্ব এশিয়াজুড়ে আঘাত হানা নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ জনজীবন ও প্রাণীজগতের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। তীব্র দাবদাহে দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জনের বয়স ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং একে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মে থেকে দেশটিতে প্রায় ২ হাজার ২৫ জন তীব্র তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত রবিবার ইয়াংসান শহরে তাপমাত্রা ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা গত ১২২ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। প্রেসিডেন্ট লি সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদী এই চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।
সীমান্তের ওপারে উত্তর কোরিয়াতেও তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। সেখানে সরকারি গণমাধ্যম দেশজুড়ে তাপ সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং পিয়ংইয়ংয়ের ওয়াটার পার্কগুলোতে ভিড় বেড়েছে। তবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাবে দেশটিতে তাপজনিত হতাহতের প্রকৃত তথ্য এখনো অজানাই রয়ে গেছে।
জাপানেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশটির ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ৬০০ জনকে হিটস্ট্রোকের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করায় একে ‘নিষ্ঠুর গরমের দিন’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
টোকিও’র বৃহত্তম চিড়িয়াখানা তামা জুলজিক্যাল পার্কে তিন দিনে তিনটি সিংহীর মৃত্যুতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। চিড়িয়াখানার মুখপাত্র জানান, মুগি, ইচিগো ও লুয়েনা নামের সিংহীগুলোর মৃত্যুর কারণ হিসেবে হিটস্ট্রোককে সন্দেহ করা হচ্ছে। আফ্রিকার শুষ্ক গরমের চেয়ে জাপানের উচ্চ আর্দ্রতাপূর্ণ গরম প্রাণীদের জন্য অনেক বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
জলবায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহ আগের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং আরও তীব্র হয়ে উঠছে। একইসাথে ইউরোপের গ্রিস, স্পেন ও ফ্রান্সে দাবানলের ঝুঁকি বাড়ায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রেও চরম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করেছে যে, এল নিনোর প্রভাবে আগামী মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ার ফলে সৃষ্ট এই জলবায়ু প্রক্রিয়া বিশ্বজুড়ে খরা, ঝড় এবং তাপপ্রবাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
