AdvertisementAdvertisement

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে ক্ষুব্ধ মিশিগানের আরব মার্কিনীরা ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরিতে সরব

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আরব-আমেরিকান ভোটাররা ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলি হামলা এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান গণহত্যার দায় এড়াতে ডেমোক্র্যাটদের শাস্তি হিসেবেই এই অবস্থান গ্রহণ করেন তারা। ইয়েমেনি-আমেরিকান কর্মী সামরা লুকমানসহ অনেক ভোটারের মতে, কমলা হ্যারিস বা ডোনাল্ড ট্রাম্প—উভয়কেই পছন্দ না হলেও ডেমোক্রেটিক পার্টিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

মিশিগানের ডিয়ারবর্ন শহরের আরব ও মুসলিম প্রধান এলাকাগুলোতে নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে গ্রিন পার্টির প্রার্থী জিল স্টেইন পেয়েছেন ২৯ শতাংশ এবং কমলা হ্যারিস মাত্র ১৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি মুসলিম নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করলেও, ক্ষমতায় আসার পর তার ভূমিকা নিয়ে এখন ওই কমিউনিটিতে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার পর গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকা এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মতো পদক্ষেপগুলো আরব ভোটারদের চরমভাবে হতাশ করেছে। এছাড়া ফিলিস্তিনি অধিকার কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং ইয়েমেনি অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষা বাতিল করার মতো সিদ্ধান্তগুলো তাদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক কৌশলবিদ হোসেন দাবাজেহ জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া অনেকেই এখন তার কর্মকাণ্ডে চরম অসন্তুষ্ট, যার অর্থ এই যে, ট্রাম্পের প্রতি তাদের কোনো সমর্থন বা ভালোবাসা ছিল না, বরং সেটি ছিল ডেমোক্র্যাটদের প্রতি একটি রাজনৈতিক বার্তা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ডিয়ারবর্ন বোর্ড অব এডুকেশনের ট্রাস্টি আমের জাহার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আরব-আমেরিকানরা এখন আর কোনো রাজনৈতিক দলের অন্ধ সমর্থক নয়। তাদের কাছে গাজায় নিহত শিশুদের রক্ত এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এখন যেকোনো রাজনৈতিক দলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জাহার বলেন, মানুষ চাইত আমরা যেন ফিলিস্তিন ইস্যুকে উপেক্ষা করে অন্যান্য সাধারণ বিষয়ে ভোট দিই, কিন্তু গাজার পরিস্থিতি আমাদের এই বার্তাই দিয়েছে যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আমাদের অবশ্যই রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন আনতে হবে।

বর্তমানে মিশিগানের আরব-আমেরিকান ভোটাররা আব্দুল আল-সায়েদ এবং রাশিদা তলাইবের মতো ইসরায়েলবিরোধী প্রগতিশীল নেতাদের দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয় ভোটারদের মতে, কেবল দলের পরিচয় দেখে নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রার্থীদেরই সমর্থন দেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ফিলিস্তিন ইস্যু এখন একটি ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমারেখায় পরিণত হয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%