AdvertisementAdvertisement

পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার ও নতুন প্রদেশ গঠনের পক্ষে রাজনৈতিক নেতাদের ঐকমত্য

পাকিস্তানের বিদ্যমান শাসনকাঠামো ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘গভর্নেন্স—বাট হোয়াট অ্যাবাউট দ্য সিস্টেম?’ শীর্ষক এক সেমিনারে তারা নতুন প্রদেশ গঠন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের দাবি তুলেছেন। বক্তারা একমত পোষণ করেছেন যে, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর মৌলিক সংস্কার অনিবার্য।

পাকিস্তানের সাবেক ফেডারেল মন্ত্রী মুহাম্মদ আলী দুররানি দেশের শাসনব্যবস্থার সংকট নিরসনে সাংবিধানিক সংশোধনীর ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি দক্ষিণ পাঞ্জাব ও বাহাওয়ালপুরকে নতুন প্রদেশ হিসেবে গড়ে তোলার পক্ষে পুনরায় মত দেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর পারিবারিক বলয় থেকে বেরিয়ে এসে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক চর্চা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক কাকার সেমিনারে অভিমত ব্যক্ত করেন যে, দেশটিতে কার্যকর বেসামরিক আধিপত্যের অভাব রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। তৃণমূল পর্যায়ে জনসেবা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সুর ধ্বনিত হয়েছে এমকিউএম নেতা ওয়াসিম আকতারের কণ্ঠে, যিনি দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন।

পাকিস্তানের সাবেক ফেডারেল মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বর্তমান জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় প্রশাসনিক কাঠামোকে অপর্যাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি নতুন প্রদেশ গঠন ও বিভাগগুলোকে প্রদেশে রূপান্তরের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এছাড়া আসাদ উমর সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে কেন্দ্র, প্রদেশ ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে সুষম তহবিল বণ্টনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জামায়াতে ইসলামীর নেতা লিয়াকত বালোচ কয়েক দশক ধরে চলা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দলকেন্দ্রিক রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাংবিধানিক শ্রেষ্ঠত্ব ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আহসান ভুন বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন প্রদেশ গঠনের প্রশ্নে কেবল স্লোগান নয়, বরং ঐক্যমতের ভিত্তিতে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সবশেষে, সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা একমত হয়েছেন যে, যেকোনো প্রশাসনিক সংস্কার অবশ্যই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং ব্যাপক রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে হতে হবে। পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং নগরায়ণের চাহিদাকে মাথায় রেখে বিকেন্দ্রীকরণ এখন সময়ের দাবি। তবে এই প্রক্রিয়াটি যেন কেবল রাজনৈতিক চমক না হয়ে জনগণের জবাবদিহি ও সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করে, সে বিষয়েও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ

0%
0%
0%
0%