তনু হত্যা মামলা: ডিএনএ রিপোর্ট পরবর্তী অভিযুক্তের জামিনে বিচার নিয়ে সংশয় স্বজনদের

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার পাননি তার পরিবার। হত্যাকাণ্ডের ডিএনএ প্রতিবেদনের সূত্র ধরে গত ২১ এপ্রিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ পিবিআই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে গ্রেপ্তারের মাত্র ২ মাস ১৩ দিনের মাথায় কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন অভিযুক্ত এই ব্যক্তি।
কুমিল্লা কারাগারের জেলার জাহিদুল আলম নিশ্চিত করেছেন যে, উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর হাফিজুর রহমানকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি ১০ নম্বর সেলে বন্দি ছিলেন। প্রধান আসামির এমন জামিন প্রাপ্তিতে বিচার পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত তনুর মা। সরকার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা হারিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে যদি এভাবেই ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে তনুর পরিবার শেষ পর্যন্ত কীভাবে ন্যায়বিচার পাবে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন মেধাবী শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরবর্তীতে সেনানিবাসের পাওয়ারহাউস সংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন নিহতের বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
দীর্ঘ এই সময়ে মামলার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া এবং অভিযুক্ত আসামির জামিনে মুক্ত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
