AdvertisementAdvertisement

কন্যার মৃত্যুবার্ষিকীতে সাত দিনের নিভৃতবাসে পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হতে চলল। ভয়াবহ সেই স্মৃতি আজও ক্ষতবিক্ষত করছে দেশবাসীকে। এই শোকাবহ ঘটনার দুই বছর পূর্তিতে শোকার্ত মা এবং পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ আগামী সাত দিন সমস্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সন্তানের হারানো বেদনায় এই কটি দিন তিনি একান্ত ব্যক্তিগত পরিসরে কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রত্না দেবনাথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি আগামী সাত দিন কারো সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন না। এই সময়ের মধ্যে তিনি কোনো রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন না। তবে তার অনুপস্থিতিতেও পানিহাটির জনগণের সুবিধার্থে কার্যালয়ের দাপ্তরিক কাজকর্ম পূর্বের নিয়মেই সচল থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের সেই অভিশপ্ত ঘটনার পর থেকে রত্না দেবনাথ বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পথ বেয়ে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে পানিহাটির বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন। তবে বিধায়ক পদের ব্যস্ততা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে প্রতিটি আগস্ট মাস তাকে ফিরিয়ে আনে সেই চরম শূন্যতা ও যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতির অতলে। আইনি লড়াইয়ের জটিলতা ও রাজনৈতিক চাপ থাকলেও, মেয়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই বিশেষ দিনগুলোতে তিনি কিছুটা নিভৃতবাস কামনা করছেন।

উল্লেখ্য, দুই বছর আগে আরজি কর হাসপাতালে ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে গোটা দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল। চিকিৎসকদের আন্দোলন এবং জনরোষের মুখে পড়ে তৎকালীন প্রশাসনের ওপর গভীর চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে আদালত আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেও, তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মামলার নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার এখনো আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%