অপরিবর্তিত রেপো রেট স্বস্তি ফেরাল মধ্যবিত্তের ইএমআইয়ের বোঝায়

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারের প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে টানা চতুর্থবারের মতো নীতিগত সুদের হার বা রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। বুধবার গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই বহাল থাকছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ‘ধীরে চলো’ নীতির ফলে আপাতত মধ্যবিত্তের ওপর ঋণের কিস্তি বা ইএমআইয়ের বাড়তি বোঝা চাপছে না।
বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এমতাবস্থায় রেপো রেট বৃদ্ধি করা হলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণের সুদ বাড়িয়ে দিত, যা মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রায় আরও সংকট তৈরি করত। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল এবং অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে সতর্ক অবস্থান নেওয়াই ছিল সবচেয়ে যৌক্তিক পদক্ষেপ।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বাইভিত্তিক ৩৬০ ওয়ান অ্যাসেটের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ বিক্রম ছাবরা জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে অপরিশোধিত তেলের মূল্যে অস্থিরতা এবং শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বর্ষা মৌসুমের অনিশ্চয়তা সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার ভারসাম্য রক্ষায় অগস্টের বৈঠকে আরবিআইয়ের গৃহীত সতর্কতামূলক নীতি অত্যন্ত সময়োপযোগী।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে ছাবরা আরও বলেন, ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে এবং বর্ষা স্বাভাবিক থাকলে ভারত সরকার দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সুযোগ পাবে। তবে অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকা এবং দুর্বল বর্ষায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়ে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে ২০২৭ অর্থবর্ষের শেষ নাগাদ সুদের হার পুনর্নির্ধারণের ঝুঁকি রয়েই যাচ্ছে।
এদিকে এমকে গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ মাধবী অরোরা মনে করেন, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গঠনমূলক। তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, বিশ্বজুড়ে কঠোর আর্থিক পরিস্থিতি এবং এল নিনোর মতো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধির দৃঢ়তা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মতো বিষয়গুলোকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে ভারতের নীতিনির্ধারকরা।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
