বিপৎসীমা ছাড়াল তিস্তার পানি পানিবন্দি নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলাসহ তিস্তা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে পানির প্রবাহ দ্রুত বাড়তে থাকায় বুধবার সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী নিচু এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। বর্তমানে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নৌকা ও ভেলাই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু, বয়স্ক ও গৃহপালিত পশু নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ পরিস্থিতিতে নদীতীরবর্তী বসতবাড়িতে সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখা দিয়েছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো সংস্কার না করায় সেগুলো চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে তড়িঘড়ি করে মেরামতের নামে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়। সঠিক সময়ে টেকসই সংস্কার করা হলে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব ছিল বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া পয়েন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ঢল ও অবিরাম বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি প্রবাহের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।
এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন, পানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই বড় ধরনের বন্যার কবলে পড়বে পুরো অঞ্চল। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও চরাঞ্চলের পরিবারগুলো সরকারি সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি দ্রুত বাঁধ সংস্কারের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
