AdvertisementAdvertisement

যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৪, চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ

গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির তোয়াক্কা না করে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় অন্তত চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। মিসরের রাজধানী কায়রোতে হামাস প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কাতার, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের যুদ্ধবিরতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় উপত্যকার বিভিন্ন হাসপাতাল ছয়টি মৃতদেহ ও ৩৪ জন আহত ব্যক্তিকে গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে নতুন করে চারজনের মৃত্যুর পাশাপাশি পুরনো ক্ষতের কারণে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে আরও একটি মরদেহ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক ব্যক্তি ও আট বছর বয়সী এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত একটি তাঁবু লক্ষ্য করে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে পৃথক আরেকটি বিমান হামলায় ১৮ মাস বয়সী এক শিশুকন্যা নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছে আরও আটজন। এছাড়া গাজা সিটিতে সাইকেল আরোহী এক ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, গাজা সিটির শাতি শরণার্থী শিবিরে হামলার দৃশ্য ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। অন্তত ৩৫টি পরিবার এই হামলায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে কায়রোতে হামাস ও মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা এবং হামলা অব্যাহত রাখার মতো বিষয়গুলো নিয়ে অচলাবস্থা কাটেনি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক মানবিক সহায়তা প্রবেশের কথা থাকলেও ইসরায়েল নিয়মিত ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরেও ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে। আল-জাজিরার তথ্যানুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চলাকালীনই এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৭৩ হাজার ৩৪১ জন এবং আহতের সংখ্যা এক লক্ষ ৭৪ হাজার ৮৬ জন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%