কাশ্মীর সীমান্তে ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা ও সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আঞ্চলিক নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতায় কমপক্ষে ৩০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। গত ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের আগে ও চলাকালীন বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতাদের দাবি অনুযায়ী, রাওয়ালকোট, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় চলমান শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ফলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পর থেকে অঞ্চলটিতে ব্যাংকিং সেবা, সড়ক যোগাযোগ এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান সরকার জুন মাসে ‘সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন’ প্রয়োগ করে জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দেশটির কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের আড়ালে ভারত সমর্থিত সশস্ত্র যোদ্ধারা অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে, যদিও ভারত বরাবরই এসব অভিযোগ নাকচ করে আসছে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিক্ষোভকারীদের ওপর রাষ্ট্রীয় এই প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ ও ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়ার ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক ইসাবেল লাসি বলেন, অবিলম্বে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করে গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের অবাধে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। একইসাথে এসিএলইডি-এর সিনিয়র বিশ্লেষক পিয়ার পান্ডিয়া শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই রক্তপাত আসন্ন নির্বাচনের বৈধতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
নির্বাচনের প্রথম ধাপে মিরপুর, কোটলি ও ভিমবার জেলায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ২ ও ১০ আগস্ট পরবর্তী দুই ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জয়ী হয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে ব্যালট বাক্স ছিনতাই এবং ভোট কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনার অন্যতম কারণ হলো কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন। জেএএসসির সমর্থকরা দীর্ঘকাল ধরে দাবি জানিয়ে আসছে যে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এই আসনগুলোকে ব্যবহার করে নিজেদের সুবিধামতো পার্লামেন্টের গঠন পরিবর্তন করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান আসকারির মতে, পিএমএল-এন সরকারের স্থায়িত্ব যেহেতু এই বিতর্কিত আসনগুলোর ওপর নির্ভরশীল, তাই স্থানীয়দের যৌক্তিক দাবি পূরণে তারা কতটা সচেষ্ট হবে তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
