মেয়ের বদলে ফ্ল্যাট বেছে নেওয়ার অভিযোগে মুখ খুললেন রাজা চৌধুরী

টেলিভিশন দুনিয়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারি এবং তাঁর প্রাক্তন স্বামী রাজা চৌধুরির বিচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। বহুল আলোচিত সেই বিচ্ছেদের সময় শ্বেতা দাবি করেছিলেন যে, মেয়ে পলক তিওয়ারির বদলে রাজা নাকি একটি ফ্ল্যাটকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এত বছর পর সেই পুরনো ক্ষত খুঁড়ে বেরিয়ে এলো নতুন সত্য। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজা চৌধুরি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাজা স্মৃতিচারণ করেন ২০০৭ সালের সেই উত্তাল সময়ের কথা। তিনি দাবি করেন, ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের প্রতিটি শুনানিতে তিনি উপস্থিত থাকলেও, শ্বেতা সেখানে ১০ বারও হাজির হননি। দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং ব্যক্তিগত জীবনে চরম অস্থিরতার কারণে তিনি এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, শেষ পর্যন্ত তিনি কেবল একটু মানসিক শান্তি চেয়েছিলেন।
ওই বিতর্কিত ফ্ল্যাটটি প্রসঙ্গে রাজা জানান, সেটি ছিল তাঁর বাবার কেনা সম্পদ, যার কিস্তি তিনি ও শ্বেতা যৌথভাবে মিটিয়েছিলেন। তাই বিচ্ছেদের সময় তিনি শ্বেতাকে বলেছিলেন, সব সম্পত্তি ও মেয়ে পলকের দায়িত্ব শ্বেতা নিজের কাছে রাখলেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই, শুধু যেন তাঁকে সেই ফ্ল্যাটটি দিয়ে দেওয়া হয়। রাজার মতে, মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই চেয়ে নেওয়াকে সন্তানের সঙ্গে তুলনা করা অমূলক। তিনি সাফ জানান, সম্পত্তি চেয়ে নেওয়াটা কোনোভাবেই সন্তানের ত্যাগের সঙ্গে সমতুল্য হতে পারে না।
রাজা আরও দাবি করেন, তখন শ্বেতার সাম্রাজ্য বা খ্যাতির প্রতি তাঁর কোনো লোভ ছিল না, বরং আইনি লড়াইয়ের অবসানেই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তাই অন্যান্য যৌথ সম্পত্তিতে নিজের অধিকার থাকা সত্ত্বেও তিনি সেগুলো ছেড়ে দিতে দ্বিধা করেননি। শ্বেতার দাবি ছিল, আইনি পরামর্শ অনুযায়ী ফ্ল্যাটটি পলক ও রাজার যৌথ নামে রাখার কথা থাকলেও রাজা তাতে রাজি হননি। তবে রাজার এই নতুন ভাষ্য বিনোদন জগতে ফের শোরগোল ফেলে দিয়েছে। সম্পর্ক ভাঙার বহু বছর পার হয়ে গেলেও, তাদের এই অতীত নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া তর্ক-বিতর্ক এখন শোবিজ অঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
