যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে অ্যান্ডি বার্নাম

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা ও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গত মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশটিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্টারমারের আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে লেবার পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নাম। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে চলতি মাসেই তিনি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন।
স্টারমার গত ৫ জুলাই ২০২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের ভরাডুবি, অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে বিতর্ক এবং জেফরি এপস্টেইনের বন্ধু পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়ে চাপের মুখে ২২ জুন তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। বর্তমান সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় লেবার পার্টি যাকে নতুন নেতা নির্বাচন করবে, তিনিই হবেন গত এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী।
নতুন নেতা নির্বাচনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার থেকে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো প্রার্থীকে ৮১ জন লেবার এমপি’র সমর্থন এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন বা স্থানীয় শাখা থেকে মনোনয়ন পেতে হবে। বুধবারের মধ্যে আগ্রহীদের নাম জমা দিতে হবে। যদি একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন, তবে আগস্ট মাসের ৬ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ২৯ আগস্ট ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
অ্যান্ডি বার্নাম বর্তমানে একমাত্র ঘোষিত প্রার্থী। ‘কিং অব দ্য নর্থ’ হিসেবে পরিচিত এই রাজনীতিবিদ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে মেকারফিল্ড থেকে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে নেতৃত্বের লড়াইয়ে যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। তার জনপ্রিয়তার কারণে ওয়েস স্ট্রিটিং ও আল কার্নসের মতো প্রভাবশালী নেতারাও তার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল হোয়াইটলি জানান, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই বার্নামের নেতা হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
নিজে প্রধানমন্ত্রী হলে বার্নাম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাংশ লন্ডনের পরিবর্তে ম্যানচেস্টারে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। রাজনৈতিক আদর্শে তিনি স্টারমারের চেয়ে কিছুটা বামপন্থী এবং তিনি আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসন ও সামাজিক আবাসন খাতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে ফিলিস্তিন ও ইউক্রেন ইস্যুতে তিনি তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে কথা বললেও তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বয়কটের বিরোধী।
যদি আর কোনো প্রার্থী মনোনয়ন না জমা দেন, তবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যেই বার্নাম প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিতে পারেন। তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া তার গ্রহণযোগ্যতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কি না তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। লর্ড অ্যাশক্রফটের জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ ব্রিটিশ নাগরিক দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। যদিও বিশেষজ্ঞ পল হোয়াইটলির মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বার্নাম প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি হবেন গত দশ বছরে চতুর্থ নেতা যিনি সাধারণ নির্বাচনে জয়ী না হয়েই ডাউনিং স্ট্রিটের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
