AdvertisementAdvertisement

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে হারাতে ডার্ক মানি ও কৌশলগত অর্থায়নের অপপ্রয়োগ

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক—উভয় দলই প্রতিপক্ষ শিবিরের তুলনামূলক দুর্বল প্রার্থীদের জয়ী করতে গোপনে অর্থ বিনিয়োগ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিউ জার্সি, মেইন, টেক্সাস, পেনসিলভেনিয়া ও নেব্রাস্কার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে রিপাবলিকান সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি বা প্যাক-এর মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে হস্তক্ষেপের এই চিত্র ফুটে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানদের এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো এমন প্রার্থীদের সামনে নিয়ে আসা, যারা সাধারণ নির্বাচনে সহজেই পরাজিত হবে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘রিয়েল চেঞ্জ প্যাক’ ও ‘লিড লেফট’ নামের দুটি পপ-আপ সুপার প্যাক ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিগুলোতে ৪৩ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। বিতর্কিত এসব প্রার্থীকে সামনে আনাকে অনেকে ‘ডার্ক মানি’ বা ছায়া রাজনীতির অংশ হিসেবে দেখছেন, যা দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তবে রিপাবলিকানরা এককভাবে এই পথে হাঁটছে না। ডেমোক্র্যাটিক দলও অতীতে একই কৌশল অবলম্বন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালে মিশিগানের প্রাইমারিতে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসনাল ক্যাম্পেইন কমিটি রিপাবলিকান জন গিবসকে সহায়তা করেছিল, যাতে তিনি পিটার মেইজারের মতো অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে মনোনয়ন পেতে পারেন। পরবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিলারি সোলটেন সহজেই জন গিবসকে পরাজিত করেছিলেন। রিপাবলিকানদের দাবি, এটি ডেমোক্র্যাটিক হস্তক্ষেপের জবাব মাত্র।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক অর্থায়ন ও প্যাক-এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের বিতর্কের বিষয়। ২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের পর সুপার প্যাকগুলো অসীম পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পায়, যা মার্কিন নির্বাচনকে কার্যত অর্থের খেলায় পরিণত করেছে। বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলো এসব সুপার প্যাকের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে তুলে ধরছে এবং রাজনৈতিক প্রচারণায় মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। অনেক সময় দাতাদের পরিচয় গোপন রাখতে বিভিন্ন চ্যারিটি বা অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এই অর্থায়ন করা হয়।

এই ধরনের কৌশল এখন মার্কিন গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি আইপ্যাক-এর মতো শক্তিশালী সংগঠনের বিরুদ্ধে ‘ডার্ক মানি’ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এমন গোপনীয়তা ও অর্থের আধিপত্য সাধারণ ভোটারদের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে এবং কারা নির্বাচনে লড়বেন, তা অনেকাংশেই পর্দার আড়ালের দাতাগোষ্ঠীই নির্ধারণ করে দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%