পোল্যান্ডের সম্মাননা ফিরিয়ে দিলেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা, দুই দেশের সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঐতিহাসিক বিতর্ক এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা থেকে বঞ্চিত করার জেরে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কিয়েভের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা পোল্যান্ড থেকে পাওয়া নিজেদের রাষ্ট্রীয় খেতাব ও সম্মাননা ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতির চিফ অব স্টাফ কিরিলো বুদানভ, পোল্যান্ডে নিযুক্ত ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূত ভাসিল বোদনার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সম্মাননা ত্যাগের এই সিদ্ধান্ত জানান।
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভ্রোকি গত শুক্রবার জেলেনস্কিকে দেওয়া ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ইগল’ খেতাব প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ২০২৩ সালে পোল্যান্ডের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে দুদা নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলেনস্কিকে এই সম্মাননা প্রদান করেছিলেন। তবে পোল্যান্ডের বর্তমান প্রশাসনের ভাষ্যমতে, জেলেনস্কি ইউক্রেনের একটি সামরিক ইউনিটের নামকরণ এমন এক সংগঠনের নামে করেছেন, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পোল্যান্ডের নাগরিকদের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত ২৬ মে এক ডিক্রির মাধ্যমে ইউক্রেনের একটি সামরিক ইউনিটের নাম ‘ইউক্রেনিয়ান ইনসারজেন্ট আর্মি’ বা ইউপিএ রাখার নির্দেশ দেন। বিংশ শতাব্দীর চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকে সক্রিয় এই সংগঠনটি পোলিশদের ওপর চালানো গণহত্যার জন্য বিতর্কিত। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নাভ্রোকি সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পোল্যান্ডের নাগরিকদের ওপর সংঘটিত অপরাধের দায় এড়ানো সম্ভব নয়। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই রাজনৈতিক তিক্ততা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে একে রাশিয়ার জন্য একটি কৌশলগত উপহার হিসেবে অভিহিত করেছেন। চিফ অব স্টাফ কিরিলো বুদানভ এটিকে ইউক্রেনের জনগণের প্রতি একটি অমৈত্রীসুলভ আচরণ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, মস্কোর আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে দুই দেশের এই বিভেদ কেবল শত্রুপক্ষকেই শক্তিশালী করবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই সিদ্ধান্তকে একটি ভুল কৌশল বলে বর্ণনা করেছেন, যা যুদ্ধের এই ক্রান্তিলগ্নে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
উত্তেজনা নিরসনে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এক বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের মধ্যকার এই সংঘাত কেবল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আনন্দিত করছে এবং আন্তর্জাতিক মিত্রদের বিস্মিত করছে। উল্লেখ্য, ইউপিএ সংগঠনটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি ও সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করলেও পোলিশ ভূখণ্ডে চালানো হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের মাঝে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা