ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার ছায়া তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করল যুক্তরাজ্য

ইংলিশ চ্যানেলে অনুপ্রবেশের সময় রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়াবহরের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে ব্রিটিশ নৌবাহিনী। রবিবার ছয় ঘণ্টা ধরে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ‘স্মিরতোস’ নামক জাহাজটিকে আটক করে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ইউক্রেন যুদ্ধে ভ্লাদিমির পুতিনের অর্থায়নের উৎস বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যুক্তরাজ্য।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই সফল অভিযান রাশিয়ার জন্য একটি বড় আঘাত। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইউক্রেনে অবৈধ যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যারা পুতিনকে সহায়তা করছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তারা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আত্মগোপন করতে পারবে না।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব ড্যান জারভিস এই অভিযানের সাথে সংশ্লিষ্ট সামরিক সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, জব্দকৃত জাহাজটিকে সাময়িকভাবে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের একটি নোঙরস্থলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিবেশগত ঝুঁকি কিংবা নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জাহাজটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
রাশিয়া ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে কয়েকশ জাহাজের একটি গোপন বহর ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হয়, যার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০টিরও বেশি রুশ জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে ২০২৫ সালে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগেও ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ প্রচেষ্টায় ছায়াবহরের একাধিক জাহাজ আটক করা হয়েছে। গত মাসে ফ্রান্সের নৌবাহিনী ক্যামেরুনের পতাকাবাহী একটি সন্দেহভাজন ট্যাঙ্কার জব্দ করে। এছাড়া জানুয়ারি মাসে ‘গ্রিঞ্চ’ এবং মার্চ মাসে ‘দেইনা’ নামক জাহাজ আটকের ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচিত ছিল। এদিকে, মস্কো বরাবরই তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট জাহাজ আটকের ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা