পরীক্ষায় জালিয়াতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দমনপীড়ন ও নজরদারির মুখে মোদি সরকার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ ১২ বছরের শাসনামলে অন্যতম বড় গণআন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর। মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা এই বিক্ষোভে কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তাল ছিল পুরো দেশ। সরকার একদিকে আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে কাছে টানার কৌশলী তৎপরতা চালাচ্ছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট অঠারো বছরের কম বয়সী বিক্ষোভকারীদের মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
বিভিন্ন রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শাসনামলে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। চাপের মুখে অনেককে মুক্তি দেওয়া হলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় এখনও অনেকে নজরদারিতে রয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থী নেত্রী ঐশী ঘোষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের প্রতিবাদে এবং ডিজিটাল নজরদারিকে অসাংবিধানিক ঘোষণার দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, বিহার ও আসামসহ বেশ কিছু রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে আন্দোলনের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার এখনও লিখিত কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। এদিকে, দিল্লি পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এর কাছে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও লগ-ইন বিবরণ তলব করেছে।
নয়াদিল্লি ও বিহারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দমনে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এমনকি ছররা গুলির ব্যবহার করেছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এ ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সব ধরনের সিসিটিভি ফুটেজ ও ড্রোন চিত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নিরপরাধ মানুষের ওপর সহিংসতার ঘটনায় দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য।
অন্যদিকে, তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের মন জয় করতে বিজেপি ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছে। পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী অনূর্ধ্ব ঊনত্রিশ বছর বয়সী। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, দলটির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এখন পপ কালচার ও সমসাময়িক আবহে ভিডিও বার্তা প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে পরোক্ষভাবে সরকারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক শক্তির জয়গান গাওয়া হচ্ছে। সরকার দাবি করছে, সব পদক্ষেপই জনস্বার্থে নেওয়া হচ্ছে, যদিও বিরোধী পক্ষগুলো ও ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা এই নজরদারিকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
