AdvertisementAdvertisement

কালীঘাটে সম্পত্তির নথি তলব, কলকাতা পুরসভায় তলব অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে

কলকাতা পুরসভার বিশেষ তলবে এবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট এলাকায় তাঁদের মালিকানাধীন একাধিক সম্পত্তির নির্মাণ সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের লক্ষ্যে পুরসভার ৯ নম্বর বরো অফিসের বিল্ডিং বিভাগে শুক্রবার তাঁকে সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই সম্পত্তিগুলোর অনুমোদিত নকশা বা বিল্ডিং প্ল্যানের বাইরে কোনো অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।

পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলোতে গিয়ে মাপজোক ও সরেজমিনে পরিদর্শন করেছিলেন আধিকারিকরা। সেই পরিদর্শনের ভিত্তিতেই অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করা হয়েছে এবং তাঁকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাড়ির অনুমোদিত নকশা এবং নির্মাণ সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্রের তালিকা। কোনো অনুমোদিত নকশার বাইরে বিচ্যুতি ঘটেছে কি না, তা যাচাই করতেই পুরসভার এই পদক্ষেপ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এর আগে পুরসভার পাঠানো নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় ও লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের দাবি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবনসহ সংশ্লিষ্ট সব সম্পত্তিই যথাযথ আইন ও নিয়ম মেনে নির্মাণ করা হয়েছে। পুরসভার জারি করা নোটিস বাতিলের আর্জি জানিয়ে তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হলেও, বর্তমানে নথিপত্র যাচাইয়ের আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে পুর কর্তৃপক্ষ।

শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তিই নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর মালিকানাধীন স্থাপনাগুলোও এখন পুরসভার কড়া নজরদারিতে রয়েছে। সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর হওয়ায় অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন। বিশেষ করে কালীঘাট রোড ও হরিশ মুখার্জি রোডে থাকা এই সংস্থা ও সংশ্লিষ্টদের সম্পত্তিগুলোর বৈধতা নিয়ে বিস্তর অনুসন্ধান চলছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পুরসভার ৪০১ ধারায় জারি করা এই নোটিসে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদিও ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস’ কর্তৃপক্ষ নথি দাখিলের জন্য কিছুটা সময় চেয়ে আবেদন করেছে। এখন অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হাজিরা এবং তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পুরসভা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে প্রশাসনিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%