রাজনীতিতে বীতশ্রদ্ধ মদন মিত্র, অবসরের ইঙ্গিত কামারহাটির বিধায়কের

দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক পরিক্রমায় উত্থান-পতনের সাক্ষী কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র এবার নিজের জীবনের পেশা নির্বাচন নিয়ে চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই রাজনীতিক অকপটে স্বীকার করেছেন, রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি এক গভীর বিতৃষ্ণাবোধ করছেন। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির টানা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
বুধবার ইডির দপ্তরে প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় মদন মিত্রকে। এর কিছুদিন আগেই তিনি দল পরিবর্তন করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এই ঘটনাপ্রবাহের পরই তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে কেন্দ্রীয় সংস্থার নোটিস আসার বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বিধায়ক আক্ষেপ করে বলেন, রাজনীতি করতে করতে এখন তাঁর নিজের প্রতিই এক ধরনের ঘৃণা জন্মেছে।
অতীত ও বর্তমানের রাজনীতির প্রেক্ষাপট টেনে তিনি জানান, একসময় রাজনীতিকদের সামাজিক মর্যাদা ছিল আকাশচুম্বী। অতীতে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে রাজনীতিকদের উপস্থিতি ছিল সম্মানের বিষয়, মানুষ শ্রদ্ধাভরে তাঁদের বরণ করে নিতেন। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই মূল্যবোধ এখন তলানিতে ঠেকেছে। মদন মিত্রের কথায়, আগের মতো এখন আর সাধারণ মানুষ রাজনীতিকদের সেই দৃষ্টিতে দেখেন না, এমনকি সামাজিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোও কমে গেছে।
নিজের ক্যারিয়ারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনীতি না করে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা বা অধ্যাপনাকে বেছে নিলে হয়তো তিনি আজ অনেক বেশি শান্তিতে থাকতেন। রাজনীতির অস্থিরতা ও চাপ তাঁকে এতটাই ক্লান্ত করে ফেলেছে যে, তিনি প্রায়শই দমবন্ধ অনুভব করেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান নিয়ে তিনি যে বিভ্রান্ত ও হতাশ, তাও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়।
আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে এই বর্ষীয়ান নেতা জানান, গত নির্বাচনে জয়ী না হলে তিনি হয়তো রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেলতেন। যদিও তিনি এখনো কামারহাটি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে নিজের গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তিনি এখন মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত। মদন মিত্রের এই অপ্রত্যাশিত মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা ও আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
