AdvertisementAdvertisement

কমলগঞ্জে বেহাল সড়ক সংস্কারে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রম, দ্রুত পাকাকরণের দাবি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের আমরতল-দেওড়া ছড়া সড়কের দক্ষিণ বড়চেগ অংশের দীর্ঘদিনের বেহাল দশা নিরসনে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দারাই হাল ধরেছেন। বছরের পর বছর অবহেলিত থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্থানীয়রা নিজেরাই গত শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমরতল থেকে দেওড়া ছড়া সড়কের দক্ষিণ বড়চেগ অংশটি দীর্ঘ সময় ধরে খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে জলাবদ্ধতা ও কাদার সৃষ্টি হয়, যার ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষ এবং চা-বাগানের শ্রমিকরা এই সড়কটি ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সংস্কার কার্যক্রমটির নেতৃত্ব দেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. হারুনুর রশিদ এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন স্থানীয় মুরব্বি মো. সিদ্দেক মিয়া ও মো. আফতাব মিয়া। শতাধিক এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে মাটি ভরাট ও গর্ত সংস্কার করে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করে তোলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সড়কটির স্থায়ী সংস্কারের কোনো আশ্বাস মেলেনি।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, বর্ষাকালে কাদা ও পানির কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক শিক্ষার্থী পথ চলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে পোশাক ও বইপত্র নষ্ট হওয়ার ভয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহন করতে গিয়েও এলাকাবাসীকে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সমাজসেবক মো. হারুনুর রশিদ আক্ষেপ করে বলেন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বাধ্য হয়ে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে নিজেরাই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় মুরুব্বি মো. আফতাব মিয়া বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণ বড়চেগ এলাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

এলাকাবাসী মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরীর (হাজী মুজিব) ওপর বিশেষ আস্থা রাখছেন। তারা বিশ্বাস করেন, নতুন সংসদ সদস্য দ্রুত আমরতল-দেওড়া ছড়া সড়কের এই অংশটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেবেন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী সংস্কার করা হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

0%
0%
0%
0%