গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে বুনদিবুগিও ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত ৭৮২ মৃত্যু ১৭৮

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে বিরল বুনদিবুগিও ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৭৮২ জনের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আঞ্চলিক সংঘাত, রোগীদের আইসোলেশন কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের শনাক্তকরণে সীমাবদ্ধতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৭২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন ২৯ জন। বর্তমান প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর হার ২২ দশমিক ৮ শতাংশ। এখন পর্যন্ত ৪০ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, আগের ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোতে প্রধানত জাইর স্ট্রেইন দায়ী থাকলেও এবার ছড়িয়ে পড়েছে বুনদিবুগিও স্ট্রেইন। এই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন আফ্রিকান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মহাপরিচালক জঁ কাসেয়া। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সংক্রমণের বিস্তার থামানো না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
বর্তমানে সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের শনাক্ত করার হার ৯৫ শতাংশে রাখার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে সংক্রমণের প্রকৃত বিস্তার শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স বা এমএসএফের আশঙ্কা, নজরদারি ও পরীক্ষার ঘাটতির কারণে প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত ব্যাপ্তি এখনো অজানা। ফলে সরকারি হিসাবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় আরও কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ বর্তমানে এই প্রাদুর্ভাবের প্রধান কেন্দ্রস্থল। দেশটির মোট সংক্রমণের প্রায় ৯৫ শতাংশই এই প্রদেশে শনাক্ত হয়েছে। এরই মধ্যে ভাইরাসটি উত্তর ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও সংক্রমণ পৌঁছেছে।
সংঘাতপূর্ণ এই অঞ্চলে এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং খনি শ্রমিকদের অবাধ যাতায়াত ভাইরাসটির বিস্তার আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ইতুরি প্রদেশের মংবওয়ালু স্বাস্থ্য এলাকা থেকেই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলটি কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাতের মধ্যে রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরীক্ষার পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে এমএসএফ জানিয়েছে, কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাদের প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ ডলারের তীব্র তহবিল ঘাটতি রয়েছে। এই অর্থসংকটের কারণে রোগ শনাক্তকরণ, নজরদারি, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলজুড়ে বুনদিবুগিও ইবোলার সংক্রমণ আরও ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
