উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল

কক্সবাজারের উখিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি ও মানবিক সহায়তার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া-বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। শুক্রবার দুপুরে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সরাসরি উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে যান। প্রতিনিধি দলের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনও উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর এরিক গিলান, বিশেষ দূতের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা চার্লস হর্টন ও চেস্টার ক্রোগার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা দপ্তরের সহকারী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্রিস ওসবোর্ন ও ইয়ান ডিক এবং ভিআইপি ভিজিট সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আহসান। সফরকালে তারা উখিয়ার ৪ নম্বর ক্যাম্পে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া প্রতিনিধিদলটি ৮ ওয়েস্ট ওয়াচ টাওয়ারে উঠে পুরো ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং ৬ নম্বর ক্যাম্পে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মানবিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় ইউসিআরের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬০ জন রোহিঙ্গা নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে নিজেদের মাতৃভূমিতে ফেরার আকুতি এবং শরণার্থী জীবনের অবসানের দাবি সম্বলিত বার্তা ফুটে ওঠে। এরপর বিকেল ৫টার দিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রোহিঙ্গা সংকট, মানবিক সহায়তা এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, প্রতিনিধি দলের এই সফরকে কেন্দ্র করে ক্যাম্প এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছিল। সফরের প্রতিটি স্থানে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল এবং পুরো কর্মসূচি কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, তিন দিনের সরকারি সফরে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছান মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর। সফরের শেষ দিনে শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের মাধ্যমে তার সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
