ভালুকায় স্বল্প বেতনে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত শিশুরা আইন অমান্যের অভিযোগ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় দারিদ্র্যের কশাঘাতে পিষ্ট হয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অল্প বেতনে শিশুশ্রমিকদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। যে বয়সে শিশুদের হাতে বই-কলম থাকার কথা, সেই বয়সে অভাবের তাড়নায় তারা ঝাড়ু, তেলকালিমাখা যন্ত্রপাতি কিংবা লোহা কাটার মতো কঠোর পরিশ্রমের কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ আইনের তোয়াক্কা না করে ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী কোমলমতি শিশুদের দীর্ঘসময় ধরে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার সিডস্টোর বাজারের মক্কা ডেন্টিং অ্যান্ড পেন্টিং ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ করা খাগড়াছড়ির বাসিন্দা ১৪ বছর বয়সী চেং মারমার চোখমুখে ছিল চরম ক্লান্তির ছাপ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধুলো-ময়লা মাখা পরিবেশে ডেন্টিং ও রঙের কাজ করলেও শিক্ষানবিশ হিসেবে সে কোনো পারিশ্রমিক পাচ্ছে না। একইভাবে ভাওয়ালিয়া বাজু গ্রামের সুজনের ১১ বছর বয়সী ছেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে ভারী মালামাল পরিবহন করে জীবিকা নির্বাহ করছে, যার ফলে তার শারীরিক গঠন হুমকির মুখে পড়েছে।

পৌর সদরের সেভেন স্টার রেস্তোরাঁতেও দেখা মিলল শিশুশ্রমের করুণ চিত্র। ভাওয়ারমোড় গ্রামের ১৩ বছর বয়সী ইমরান নামে এক কিশোর মাত্র চার হাজার টাকা বেতনে সকাল সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা রেস্তোরাঁয় কাজ করছে। হাকিম নামে ১৩ বছর বয়সী আরেক শিশু থ্রি-হুইলারের হেলপার হিসেবে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে মাত্র ১৫০ টাকা আয় করে। অভাবের কারণে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত এসব শিশু তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর সংকটে রয়েছে।

এনজিও আসপাডার নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশিদ জানান, ভালুকায় দারিদ্র্যের দোহাই দিয়ে শিশুশ্রমকে বৈধতা দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দরিদ্র পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে এবং তাদের সন্তানদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি ঘটছে না।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরোজ হোসেন বলেন, শিশু-কিশোরদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সব খাত থেকে শিশুশ্রম সম্পূর্ণ নির্মূল করাই প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল শিশুশ্রম বন্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণসহ দোষী নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%