যুদ্ধবিরতির আড়ালে গাজায় প্রতিদিন শিশুর মৃত্যু প্রাণঘাতী বিভ্রম: ইউনিসেফ

গাজায় তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরও ফিলিস্তিনি শিশুদের মৃত্যুর মিছিল থামেনি। জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসেরও বেশি সময় ধরে উপত্যকাটিতে প্রতিদিন গড়ে একজন করে শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। সংস্থাটি এই যুদ্ধবিরতিকে এক ‘নিষ্ঠুর ও প্রাণঘাতী ভ্রম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

বিজ্ঞাপন

ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার জেনেভায় সাংবাদিকদের জানান, গত অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে কমপক্ষে ২৬৫ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যখন বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে, তখন গাজার পরিবারগুলোকে প্রতিনিয়ত তাদের সন্তান হারানোর শোক বইতে হচ্ছে। ঘরবাড়ি, বিদ্যালয় এমনকি খেলার মাঠ বা মাছ ধরার সময়ও রেহাই পায়নি এসব শিশু।

এল্ডার জানান, চলতি সপ্তাহেও এক দুই বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া তাবু টানিয়ে আশ্রয়ে থাকা তেরো বছরের এক কিশোর এবং বাবার সঙ্গে থাকা পাঁচ বছরের এক শিশুও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। ইউনিসেফের হিসাবমতে, গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত চার শতাধিক শিশু গুরুতর জখম হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও সামরিক নিষেধাজ্ঞার কারণে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ওষুধ, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে আহত শিশুদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি এবং অঙ্গহানির মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এছাড়া লেবাননেও গত মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ২৪৭ জন শিশু নিহত এবং ৯৯২ জন আহত হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গাজার শিশুদের ওপর মানসিক প্রভাব কতটা গভীর, তা তুলে ধরে এল্ডার বলেন, ভয় ও সহিংসতা এখন তাদের শৈশবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, শিশুদের হত্যা অব্যাহত রেখে কোনো যুদ্ধবিরতিকেই অর্থবহ বলা যায় না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৭৩ জন আহত হয়েছেন। এমনকি তথাকথিত যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও ১ হাজার ৭ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩ হাজার ১৬৫ জন আহত হয়েছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%