জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে বিশ্বের অর্ধেক শিশু ত্বরান্বিত করতে হবে সবুজ রূপান্তর

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ অভিঘাত আজ বিশ্বজুড়ে এক অস্তিত্বের সংকটে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি শিশুই অন্তত একটি জলবায়ুজনিত ঝুঁকির সম্মুখীন। গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ দ্রুত কমিয়ে আনা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশু অন্তত তিনটি জলবায়ুজনিত ঝুঁকির কবলে পড়ছে। তীব্র দাবদাহ, দাবানল, খরা এবং বন্যার মতো দুর্যোগ প্রতিনিয়ত শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বেঁচে থাকার অধিকারকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল জানিয়েছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে শিশুদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ১৮০ কোটি শিশু খরার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং ১২০ কোটি শিশু প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের শিকার। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর জলচক্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত মাসে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো রেকর্ড পরিমাণ তাপপ্রবাহ প্রত্যক্ষ করেছে, যা মৌসুমী স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়াও প্রায় প্রতিটি শিশুই বায়ুদূষণের শিকার হচ্ছে এবং ১০০ কোটি শিশু ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের এই ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় বিশ্বনেতা ও ব্যবসায়িক কর্তাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়কর প্রভাব এড়াতে প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রায় ২০০টি দেশ প্যারিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল, যা ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে কার্যকর হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং নিঃসরণ হারের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, নির্ধারিত এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অত্যন্ত দুরূহ। এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়বারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে প্যারিস চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী পরিবেশবাদী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%