টাইব্রেকার-নাটকে ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

মালদ্বীপের মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে গ্যালারিভর্তি হাজারো প্রবাসী বাঙালির গগনবিদারী উল্লাস। ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা নিজেদের করে নিল বাংলাদেশের যুবারা। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর স্নায়ুক্ষয়ী পেনাল্টি শুটআউটে শেষ হাসি হাসে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বিজ্ঞাপন

নির্ধারিত সময়ের লড়াই: বাংলাদেশের আধিপত্য টুর্নামেন্টে আগের তিন ম্যাচে ৯ গোল করে ফাইনালে আসা ভারত দ্বিতীয়ার্ধে জ্বলে ওঠার চেষ্টা করলেও, পুরো ম্যাচ জুড়েই বাংলাদেশের আধিপত্য ছিল। বাংলাদেশের অদম্য রক্ষণ আর মাঝমাঠের দৃঢ়তার কাছে নীল জার্সিধারীদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

  • ১৩ মিনিট: রোনান সুলিভানের নিখুঁত ফ্রি-কিকে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীর হেড পোস্টে বাতাস লাগিয়ে বাইরে চলে যায়।
  • ১৯ মিনিট: স্ট্রাইকার মানিকের বাড়ানো বলে রোনান ঠিকঠাক পা ছোঁয়াতে পারলে তখনই এগিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ।
  • শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ: শেষ দিকে রোনান ও ডেকলান সুলিভান—এই দুই ভাই মিলে এমন চাপ সৃষ্টি করেন, যা ভারতীয় রক্ষণভাগকে রীতিমতো দিশেহারা করে তোলে।

স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকার ও জয়ের মুহূর্ত নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে পরতে পরতে ছিল নাটকীয়তা:

  • প্রথম শট: ভারতের ঋষি সিংয়ের দুর্বল শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন। এই সেভেই বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে ওঠে।
  • পরবর্তী শটগুলো: বাংলাদেশের হয়ে মোর্শেদ, চন্দন ও বদলি নামা রিয়াদ ফাহিম ঠাণ্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করেন। ভারতও তাদের তিনটি শটে গোল আদায় করে নেয়।
  • নাটকীয় চতুর্থ শট: বাংলাদেশের স্যামুয়েল রাকসামের নেওয়া শটটি ক্রসবারে লাগলে স্কোর ৩-৩ সমতায় ফেরে, বাড়ে উৎকণ্ঠা।
  • নির্ধারক পঞ্চম শট: ভারতের ওমাং দোদাম বল পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারলে শিরোপার দুয়ার খোলে বাংলাদেশের। এরপর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি ফুটবলার রোনান সুলিভান ঠাণ্ডা মাথায় শেষ শটটি জালে জড়ালে শিরোপা ধরে রাখার আনন্দে ভাসে বাংলাদেশ।

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই রোনান সুলিভান জার্সি খুলে গ্যালারির দর্শকদের দিকে ছুঁড়ে মারেন। অন্যদিকে হারের হতাশায় ম্লান ভারতীয় তরুণদের মাঠের এক কোণে সারি বেঁধে বসে থাকতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

অধিনায়ক ও কোচের প্রতিক্রিয়া কোচ মার্ক কক্সের অধীনে এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম টুর্নামেন্ট এবং প্রথম শিরোপা। শিষ্যদের প্রশংসায় ভাসিয়ে তিনি বলেন, “এই ফুটবলাররা হারতে শেখেনি। তারা কখনো হাল ছাড়ে না। আজও তারা সেটাই করে দেখিয়েছে। তারা তাদের পতাকার জন্য খেলে।”

ফিরে দেখা: মধুর প্রতিশোধ ২০২২ সালে ভুবনেশ্বরে ভারতের কাছে ফাইনালে হারের পর অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছেড়েছিলেন বাংলাদেশের তরুণরা। চার বছর পর কাল সেই একই মঞ্চে একই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিল তারা। এর আগে ২০২৪ সালেও ভারতকে সেমিফাইনালে এবং ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ জিতেছিল বাংলাদেশ। জাতীয় দলের দীর্ঘ শিরোপা খরা থাকলেও, বয়সভিত্তিক ফুটবলে যুবাদের এই সাফল্য দেশের ফুটবলকে দেখাচ্ছে নতুন আশার আলো।

সম্পর্কিত- অনূর্ধ্ব-২০
0%
0%
0%
0%