ইংল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ ভারত হারালো শীর্ষস্থান ও আইয়ারের অধিনায়কত্বে কঠিন শিক্ষা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া এবং আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হারানোটা যে কোনো দলের জন্যই বড় ধাক্কা। ঠিক এমনটাই ঘটেছে শ্রেয়াস আইয়ারের ভারতের ক্ষেত্রে। সিরিজের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের পাহাড়সম ২৫৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত ৫৬ রানে পরাজিত হওয়ায়, ০-৪ ব্যবধানে সিরিজ হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সফরকারীদের। এই ম্যাচে ভারতের বোলাররা ১৭টি ছক্কা হজম করেছেন, যা টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শ্রেয়াস আইয়ার স্বীকার করেছেন যে, মাঠের ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশন এবং পিচের চরিত্রের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হওয়াই তাদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ। সাতটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করে ছয়টিতেই হারতে হয়েছে আইয়ারকে, যা তার জন্য বেশ কঠিন এক পথচলা। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, ইংল্যান্ড দল ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই তাদের চেয়ে অনেক বেশি দাপট দেখিয়েছে এবং যোগ্য দল হিসেবেই তারা জয়ী হয়েছে।

সিরিজজুড়ে দলের ফিল্ডিং মান নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করলেও, এই বিপর্যয়কে ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় শিক্ষা হিসেবেই দেখছেন আইয়ার। দলে বারবার কম্বিনেশন পরিবর্তন এবং ওয়াশিংটন সুন্দর কিংবা সূর্যবংশীর মতো খেলোয়াড়দের বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যায় আইয়ার জানান, ইংল্যান্ডের বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইনআপের সামনে কন্ডিশন অনুযায়ী সেরা কম্বিনেশন খুঁজে বের করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বিশেষ করে এই পিচে ডানহাতি ব্যাটারদের আধিক্য বজায় রাখতে স্যামসনকে ওপেনিংয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল।

সূর্যকুমার যাদবের কাছ থেকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পর থেকে প্রত্যাশার চাপ অনেক বেশি ছিল, তবে আইয়ার এই পরিবর্তনকে কোনো চাপ হিসেবে দেখছেন না। বরং একে সৌভাগ্য বলেই মনে করছেন তিনি। নিজের অধিনায়কত্ব এবং দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার চেয়ে সামনের দিনের চ্যালেঞ্জগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ভারতীয় অধিনায়ক।

বিজ্ঞাপন

আগামীতে অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশে খেলার অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে দলের অন্দরমহলে সঠিক বোঝাপড়া বা ‘ক্যামরাডারি’ তৈরি করাই এখন তার মূল লক্ষ্য। আইয়ার দৃঢ়কণ্ঠে জানিয়েছেন, এই ব্যর্থতা তাকে মানসিকভাবে আরও পরিণত করবে এবং ভবিষ্যতে বিদেশের মাটিতে দলের খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান।

0%
0%
0%
0%