ইস্তাম্বুলে ইসরায়েলি কনস্যুলেটের কাছে গোলাগুলি: ৩ হামলাকারী নিহত, ২ পুলিশ আহত

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইসরায়েলি কনস্যুলেট ভবনের কাছে গোলাগুলির ঘটনায় তিন হামলাকারী নিহত এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তুরস্কের সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

আল জাজিরার সাংবাদিক সিনেম কোসেওগ্লু জানিয়েছেন, মঙ্গলবার তিন ব্যক্তি এই হামলায় অংশ নেয় এবং পুলিশের পাল্টা গুলিতে তারা “নিহত” হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পুলিশ কর্মকর্তা বন্দুক বের করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করছেন এবং চারদিকে গুলির শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ভিডিওতে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতেও দেখা যায়।

কোসেওগ্লু জানান, কনস্যুলেট ভবনটি ইস্তাম্বুলের বেসিকতাস জেলার বুয়ুকদেরে স্ট্রিটের ইয়াপি ক্রেডি প্লাজায় অবস্থিত। ওই বহুতল ভবনের সপ্তম তলায় কনস্যুলেটের কার্যালয়। এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল এবং সেখানে অনেক আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ কাজ করেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ওই সাংবাদিক বলেন, “হামলাকারী তিন ব্যক্তি একটি গাড়িতে করে এসে গুলি চালানোর চেষ্টা করে, এরপর নিরাপত্তাকর্মীরাও পাল্টা গুলি চালান।”

বিজ্ঞাপন

তবে জানা গেছে, বর্তমানে ইস্তাম্বুলের এই কনস্যুলেট ভবন বা আঙ্কারার ইসরায়েলি দূতাবাসে কোনো ইসরায়েলি কূটনীতিক কর্মরত নেই। কোসেওগ্লু জানান, “এর অর্থ হলো, এই কূটনৈতিক মিশনগুলোতে যারা ভেতরে আছেন তারা মূলত স্থানীয় কর্মী।”

হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত: তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তফা চিফতি জানিয়েছেন, হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা ইস্তাম্বুল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পূর্বের শহর ইজমিত থেকে একটি ভাড়ার গাড়িতে করে এসেছিল। তিনি জানান, “হামলাকারীদের একজনের সাথে ধর্মকে ব্যবহার করে এমন একটি গোষ্ঠীর সম্পর্ক রয়েছে”, আর হামলাকারী দুই ভাইয়ের মধ্যে একজনের মাদক সংক্রান্ত অপরাধের অতীত রেকর্ড রয়েছে।

ইস্তাম্বুলের গভর্নর দাউত গুল এই ঘটনাকে একটি “উসকানিমূলক কাজ” বলে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে, বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

হামলার উদ্দেশ্য: ডেইলি সাবাহ পত্রিকার এডিটোরিয়াল কোঅর্ডিনেটর মেহমেত চেলিক আল জাজিরাকে বলেন, ইরান, গাজা বা লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েল-বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির কারণে এই ঘটনাটি যথেষ্ট “তাৎপর্যপূর্ণ” এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল।

তিনি এই হামলার পেছনে তিনটি সম্ভাব্য উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করেছেন: প্রথমত, চলমান যুদ্ধের মধ্যে তুরস্কের ‘নিরাপদ ও স্থিতিশীল’ ভাবমূর্তি নষ্ট করা; দ্বিতীয়ত, তুরস্ককে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে টেনে আনা; এবং তৃতীয়ত, কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী শহর হিসেবে ইস্তাম্বুলের সুনাম ক্ষুণ্ণ করা।

চেলিক আরও বলেন, এই হামলাকে তুরস্কের অতীত ইতিহাসের চেয়ে আলাদা করে দেখা উচিত। কারণ দেশটি বর্তমানে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সাম্প্রতিক অস্ত্রসমর্পণ এবং প্রতিবেশী সিরিয়ায় পরিবর্তনের ফলে একটি “সন্ত্রাসমুক্ত” সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটি মূলত তুরস্ক ও বৃহত্তর অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব কমানোর একটি বড় প্রচেষ্টা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%