ব্যর্থতার ভয় জয় করে লিটনের ব্যাটে নতুন দিনের শুরু নেপথ্যে মুশতাকের মন্ত্র

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে লিটন দাসের ব্যাট থেকে এল দীর্ঘ ১১ বছরের আক্ষেপ ঘোচানো এক ফিফটি। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যখন লিটন ক্রিজে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করছিলেন, তখন মাঠের বাইরের নেপথ্য কারিগর হিসেবে মুশতাক আহমেদের নামটাই উচ্চারিত হচ্ছিল বারবার। বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্বে থাকা এই কিংবদন্তি বর্তমানে ব্যক্তিগত কাজে লন্ডনে অবস্থান করলেও, লিটনের মানসিক পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি এক পডকাস্টে লিটন দাস নিজেই স্বীকার করেছেন, মুশতাক আহমেদের সাহচর্য তার খেলার ধরনে ও মানসিকতায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। ব্যর্থতার ভয় কাটিয়ে মাঠে কীভাবে উপভোগ করতে হয়, সেই মন্ত্রই শিখিয়েছেন এই বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তানি ক্রিকেটার। লিটনের মতে, এখন আর ম্যাচের ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করেন না তিনি।

দলীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মুশতাক আহমেদ বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে না থাকলেও, মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ক্রিকেটারদের জন্য একজন মেন্টর হিসেবে কাজ করছেন। মাঠের ভেতরে ও বাইরে ক্রিকেটারদের চাপের মুখে শান্ত থাকার কলাকৌশল বুঝিয়ে দেন তিনি। তার এই অভিজ্ঞতালব্ধ পরামর্শ ক্রিকেটারদের মাঝে দারুণ প্রভাব ফেলেছে।

মুশতাক আহমেদের দর্শন অনুযায়ী, একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে কাজ করার আগে তার ব্যক্তিত্ব বোঝা জরুরি। তিনি মনে করেন, একজন স্ট্রাইক ব্যাটার হিসেবে ব্যর্থতা আসবেই, কিন্তু তা যেন মানসিকভাবে কোনো খেলোয়াড়কে স্থবির করে না দেয়। মুশতাক বলেন, পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে ব্যর্থ হলেও বাকি দুটি ম্যাচে একাই ম্যাচ জেতানোর সক্ষমতা অর্জন করাটাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। লিটনের মতো প্রতিভাবান ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসের অভাব দূর করতেই তিনি কাজ করেছেন, যাতে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

বিজ্ঞাপন

মুশতাক আহমেদ আরও জানান, তার কোচিং দর্শনের মূল ভিত্তি হলো খেলোয়াড়ের সাথে সততার সম্পর্ক গড়ে তোলা। ইংল্যান্ড দলের সাথে দীর্ঘ ৬ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিখেছেন যে, কোচ নয়, বরং খেলোয়াড়ই সবার আগে। তার ভাষ্যমতে, ব্যর্থতার দায়ভার কোচের এবং সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব খেলোয়াড়ের। ঠিক এই মানসিকতা নিয়েই তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সাথে কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন।

নাফিস ইকবাল ও দলের সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে মুশতাক ক্রিকেটারদের মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে নিয়মিত কাজ করছেন। দিনশেষে খেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরিবারের সাথে সময় কাটানো যে একজন খেলোয়াড়ের জন্য কতটা জরুরি, সেই বার্তাও তিনি বারবার দিয়ে আসছেন। মুশতাকের এই বিশেষ ‘মন্ত্রণায়’ কেবল লিটন দাসই নয়, বরং পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলই এখন দারুণ ফর্মে। পাকিস্তান সিরিজের ঐতিহাসিক জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও তার প্রতিফলন স্পষ্ট।

0%
0%
0%
0%