জাপানের কিউশু দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও একজনের মৃত্যু

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো প্রিফেকচারে শক্তিশালী ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে অনুভূত এই ভূকম্পনের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, বেশ কিছু ভবন ধসে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৭.১ জানালেও পরবর্তীতে তা ৬.৮ হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল কুমামোতো শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে উপকূলীয় শহর উটোর কাছে। দুর্যোগের পরপরই সুনামির সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তীতে তা তুলে নেওয়া হয়। কুমামোতো শহরের একটি শপিং মলে ধসের পর শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে আটকা পড়া ২০ থেকে ৩০ জন কর্মীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে গণমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে।
দুর্যোগের তীব্রতায় কুমামোতো শহরের রাস্তাঘাট দুমড়েমুচড়ে গেছে এবং কিউশু এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া ঐতিহাসিক কুমামোতো দুর্গের প্রাচীরের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এই ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়াও স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে শতাধিক মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ৩ লক্ষ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা এখন পর্যন্ত ৬০টিরও বেশি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করেছে, যা উদ্ধারকাজকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। পরাঘাতের আশঙ্কায় বুধবার সকাল থেকেই বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিকটবর্তী কাগোশিমা প্রিফেকচারের সেন্দাই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এর কম্পন সুদূর দক্ষিণ কোরিয়াতেও অনুভূত হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ার কারণে জাপান নিয়মিত বড় ধরনের ভূকম্পনের ঝুঁকিতে থাকে, যেখানে প্রতিনিয়ত টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া ঘটে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা