কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি জাহাজে হামলা: উত্তেজনা প্রশমনে তেহরানের সঙ্গে কিয়েভের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা

কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনায় উত্তেজনা নিরসনে তেহরানের সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে আলোচনা করেছেন কিয়েভের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা। ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় একজন নাবিক নিহত ও অপর একজন আহত হওয়ার পর এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। ইউক্রেনীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ এবং সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনকারী নৌযান, বেসামরিক কোনো জাহাজ বা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্দ্রেই সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি তেহরানকে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সিবিহা রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সামরিক সহযোগিতার সমালোচনা করে বলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়া যে অন্যায্য যুদ্ধ চালাচ্ছে, তাতে সমর্থন বন্ধ করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের সব সামরিক পদক্ষেপ কেবল নিজেদের দেশ রক্ষায় সীমাবদ্ধ।
তবে ইরানের অবস্থান বেশ কঠোর। আব্বাস আরাকচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের স্বার্থ বা নাগরিকদের ওপর যেকোনো হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং এর জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে, সিবিহা তাকে আশ্বস্ত করেছেন এই হামলাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং ইউক্রেন পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চায় না। এদিকে, ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো হামলার কঠোর মূল্য দিতে হবে এবং কিয়েভকেও এর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।
এই ঘটনাকে ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও ঘনীভূত হয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, ইসরায়েল ইউক্রেনকে প্ররোচিত করছে যাতে ইউরোপকে এই সংঘাতের মধ্যে টেনে আনা যায়। অন্যদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার জানিয়েছেন যে তিনি ইউক্রেনীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের হুমকি মোকাবিলাসহ পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
উল্লেখ্য, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পৃথকভাবে হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত ইউক্রেন দাবি করছে, তারা সামরিক প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়ে ড্রোন হামলার মতো হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকেও সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা