হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওমানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা এবং এর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ইরান ও ওমানের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কৌশলগত জলপথটি সচল করতে ওমান একটি আঞ্চলিক যৌথ ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব দিয়েছে। পূর্ব এশিয়ার মালাক্কা প্রণালীর আদলে প্রণীত এই প্রস্তাবে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ঐচ্ছিক ফি প্রদানের কথা বলা হয়েছে, যা মূলত সমুদ্রপথে নেভিগেশন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হবে।
ওমানের এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাণিজ্যে সৃষ্ট স্থবিরতা নিরসন করা। ওমানি প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এককভাবে ইরানের হাতে থাকবে না। তবে তেহরান প্রাক-যুদ্ধকালীন অবাধ জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থায় ফিরে যেতে রাজি নয়। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি স্পষ্ট করেছেন যে, ওমানের প্রস্তাবিত সমান অংশীদারত্বের বিষয়টি তেহরানের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রস্তাব হিসেবে বলা হয়েছে, তারা নিজস্ব জলসীমার মধ্য দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে এবং ওমান তাদের জলসীমার একটি নির্দিষ্ট অংশ পরিচালনা করবে। তেহরান এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় না বসার সিদ্ধান্তে অটল থাকলেও ওমানের সঙ্গে ধাপে ধাপে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপসহ যেকোনো কৌশল অবলম্বন করা হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ মনে করেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে ওমানের এই প্রচেষ্টা ইতিবাচক। তবে মালাক্কা প্রণালীর মডেলে সংগৃহীত বার্ষিক প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ইরানের প্রত্যাশিত প্রতি জাহাজ ১ মিলিয়ন ডলারের ‘সার্ভিস ফি’-এর তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ফলে ইরানের কঠোরপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই প্রস্তাব গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জলপথটিতে চলাচলের স্বাধীনতা এবং সহযোগিতার নতুন উপায় নিয়ে তারা কাজ করছেন। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর আগ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ হতো। বর্তমানে কূটনৈতিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলা স্থগিত করেছে, যাতে জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা