আমেরিকার রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিজম নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত জনমত

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্রেটিক সোশালিস্ট অব আমেরিকা বা ডিএসএ-এর উত্থান এবং ধারাবাহিক জয়লাভের ঘটনা ঘটলেও, দেশটির সাধারণ মানুষের কাছে এই আদর্শের স্বরূপ এখনো ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন। রয়টার্স ও ইপসসের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৪৯ শতাংশ মার্কিনি দাবি করেছেন যে তারা এই ধারার নীতিগুলো সম্পর্কে সম্যক অবগত। এর বিপরীতে ৪৭ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, তারা এই আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখেন না, যা আমেরিকার মূলধারার বাইরের বামপন্থি রাজনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শ্রমিক শ্রেণির ক্ষমতায়ন এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা এই সংগঠনটিতে আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ এবং নিউইয়র্কের জোড়ান মামদানির মতো প্রভাবশালী রাজনীতিকরা সক্রিয় রয়েছেন। গত জুন মাসে নিউইয়র্ক সিটিসহ কলোরাডো ও ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন প্রাইমারি নির্বাচনে ডিএসএ সমর্থিত প্রার্থীদের জয়লাভ তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারেরই ইঙ্গিত দেয়। তবে ব্যাপক প্রচারণার পরও জনমতের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এখনো এই আদর্শের প্রতি সংশয়বাদী।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মাত্র ২৭ শতাংশ মনে করেন, ডেমোক্রেটিক সোশালিস্টদের প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে কিছু ভালো দিক রয়েছে। উল্টোদিকে ৫১ শতাংশের মতে, এগুলোর কার্যকর কোনো দিক নেই এবং ২০ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করতে অপারগতা জানিয়েছেন। একই ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা সমর্থকদেরও। তাদের আদর্শ সম্পর্কেও ৫৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের নেতিবাচক মনোভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

রাজনৈতিক বৈরিতা কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ডেমোক্রেটিক সোশালিস্টদের উত্থানকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ডেমোক্রেটিক দলের সব প্রার্থীকে ‘কট্টর ও নাস্তিক কমিউনিস্ট’ হিসেবে চিত্রিত করতে বিভিন্ন মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বর্তমান প্রশাসন। যদিও ডেমোক্রেটিক সোশালিস্টরা গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রগতিশীল সংস্কার বাস্তবায়নে বিশ্বাসী, যা ব্যক্তিমালিকানাহীন সমাজতন্ত্র বা সাম্যবাদের আদর্শ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বিজ্ঞাপন

অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপটি মোট ১ হাজার ২৪৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের মতামতের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ত্রুটির হার ৩ শতাংশ। রাজনৈতিক মেরুকরণের এই যুগে, ডিএসএ তাদের আদর্শকে জনমানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে নানামুখী তর্কবিতর্ক চলমান রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%