পণ্ডিতের বাজি সফল ভারতের টেস্ট দলে ডাক পেলেন সারানশ জৈন

ভারতীয় ক্রিকেট দলের শ্রীলঙ্কা সফরের স্কোয়াডে ডাক পাওয়া সারানশ জৈনের উত্থান যেন এক রূপকথার গল্প। কোচ চন্দ্রকান্ত পন্ডিতের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর ক্রিকেটের প্রতি অসামান্য নিষ্ঠা এই অফ-স্পিনিং অলরাউন্ডারকে পৌঁছে দিয়েছে আন্তর্জাতিক আঙিনায়। পন্ডিত যখন প্রথমবার অনুশীলনে সারানশের বোলিংয়ের লুপ, ড্রিপ্ট এবং নির্ভুল টার্ন দেখেছিলেন, তখনই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এই তরুণ একদিন ভারতের হয়ে খেলবেন। সে সময় সারানশ মধ্যপ্রদেশ দলের নিয়মিত একাদশেই জায়গা পাচ্ছিলেন না, আর পন্ডিতের এমন মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছিলেন খোদ ক্রিকেটার নিজেই।
পন্ডিতের অনন্য কোচিং দর্শনে মধ্যপ্রদেশের দলের খোলনলচে বদলে যায় এবং সারানশ হয়ে ওঠেন দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০২১-২২ মৌসুমে মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক রঞ্জি ট্রফি জয়ের পেছনে সারানশের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। মুম্বাইয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ফাইনালে ৫৭ রান এবং গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে ওই টুর্নামেন্টের তিনটি ম্যাচে ১৩ উইকেট এবং ১০৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। ২০২১ সালে পন্ডিতের অধীনে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৩টি ম্যাচ খেলেছেন সারানশ, যেখানে এর আগের পাঁচ মৌসুমে তিনি মাত্র ৮টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।
নির্বাচকদের প্রশংসা করে চন্দ্রকান্ত পন্ডিত জানান, আইপিএলের চাকচিক্য পেরিয়ে কেবল লাল বলের ক্রিকেটের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে সারানশকে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়াটা তরুণদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। গলে স্পিন সহায়ক উইকেটে সারানশ হয়ে উঠতে পারেন ভারতের তুরুপের তাস। অভিজ্ঞ কোচ পন্ডিতের মতে, হরিভজন সিং বা আর অশ্বিনের মতোই নিজের দিনে ম্যাচ জেতানোর সক্ষমতা রাখেন এই অফ-স্পিনার। বিশেষ করে তার রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে বোলিং করার সাহস এবং বৈচিত্র্য যেকোনো ব্যাটারের জন্য মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া সারানশ শৈশব থেকেই বাবার কাছে ক্রিকেটের দীক্ষা পেয়েছেন। পরিবারের জন্য এই ডাক পাওয়া এক গর্বের মুহূর্ত। দীর্ঘ ১০ মৌসুমের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ৫৪টি ম্যাচ খেলে ২,২২৩ রান এবং ১৮৮টি উইকেট দখল করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কা সফরে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ৭৫ রান এবং ৭ উইকেট শিকার করে তিনি নির্বাচকদের নজরে পড়েন। এছাড়া গত রঞ্জি মৌসুমে ৭ ম্যাচে ৫১৮ রান ও ৩০ উইকেট নিয়ে শার্দুল ঠাকুরের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এমন অভাবনীয় ডাবল অর্জন করেছেন তিনি। এখন দেখার পালা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জিং মঞ্চে এই অফ-স্পিনিং অলরাউন্ডার কতটা দ্যুতি ছড়াতে পারেন।