বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী আইনে অভিযুক্ত ক্রিকেটার-কর্মকর্তা-ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকেরা

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বৃহস্পতিবার এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণার মাধ্যমে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল টি-২০) দ্বাদশ আসরকে কেন্দ্র করে আইসিসি দুর্নীতি দমন বিধিমালার বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়, টিম কর্মকর্তা, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং অভিযোগপত্র প্রাপ্তির ১৪ দিনের মধ্যে তাদের জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বিসিবি’র ইন্টিগ্রিটি ইউনিট (বিসিবিআইইউ) কর্তৃক পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। ম্যাচ ফিক্সিং, জুয়া কার্যক্রম, দুর্নীতি দমন তদন্তে অসহযোগিতা এবং তদন্তে বাধা প্রদানের মতো গুরুতর অভিযোগের সাথে বিপিএল টি-২০ এর ১২তম সংস্করণ জড়িত বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে বিসিবি।
বোর্ডের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগগুলোর মধ্যে জুয়া-সংক্রান্ত কার্যক্রম, দুর্নীতিমূলক প্রস্তাব, বিধিমালার ৪.৩ ধারা অনুযায়ী জারি করা নোটিশ পালনে ব্যর্থতা, সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ গোপন করা বা মুছে ফেলা এবং মনোনীত দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার (ডাকো) সঙ্গে অসহযোগিতার বিষয়গুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
আইসিসি দুর্নীতি দমন বিধিমালার ২.৪.৬ ধারা অনুযায়ী, কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়া দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার তদন্তে অসহযোগিতা, যেমন ৪.৩ ধারার নোটিশ পালনে ব্যর্থতাও এই অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত। একই সাথে, ২.৪.৭ ধারা অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্বিত করা, যার মধ্যে প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ ও তথ্য গোপন করা, মুছে ফেলা বা নষ্ট করাও রয়েছে, তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এছাড়াও, ২.২.১ ধারার অধীনে ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, আচরণ বা অন্য কোনো দিক সম্পর্কিত বাজি ধরা, গ্রহণ করা বা তাতে অংশ নেওয়াও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
এদিকে, বিসিবি একটি পৃথক তদন্তের পর সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পার্সন পলিসি’ অনুযায়ী একটি বহিষ্কারাদেশ জারি করেছে। বিপিএল টি-২০ এর নবম, দশম এবং একাদশ আসর সহ একাধিক সংস্করণের সাথে জড়িত দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপের তদন্তে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই তদন্তে জুয়া-সংক্রান্ত কার্যকলাপ, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের কাছে দুর্নীতিমূলক প্রস্তাব, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জুয়া এবং দুর্নীতি নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ এবং ক্রিকেট ম্যাচে দুর্নীতিমূলক আচরণে সহায়তার অভিযোগগুলি উঠে এসেছে। বিসিবি জানিয়েছে, সামিনুর রহমান বহিষ্কারাদেশের নোটিশ প্রাপ্তির পর জবাব দেওয়ার অধিকার ত্যাগ করে এই বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন। আপাতত এই বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
