হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য নিয়ে দায় এড়াল ভারত, বাংলাদেশে সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়্যাল বক্তব্যের আয়োজন নিয়ে ভারতের সম্পৃক্ততার বিষয়টি জোরালোভাবে নাকচ করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন যে, এই আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই এবং সেখানে ব্যক্ত করা কোনো মতামতের দায়ভারও দেশটির সরকার বহন করবে না। তিনি উল্লেখ করেন, এটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমের উদ্যোগ।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। আগামী বুধবার নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া আয়োজিত এক ভার্চুয়্যাল অনুষ্ঠানে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এটি ক্ষমতা ছাড়ার পর তার প্রথম জনসমক্ষে উপস্থিতি হতে যাচ্ছে, যেখানে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ অন্যান্য বক্তারাও অংশ নেবেন।
হাসিনার এই বক্তব্য প্রচারকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির গত সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রতিবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, পলাতক শেখ হাসিনাসহ নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার মতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।
এদিকে, শেখ হাসিনার এই বক্তব্য প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী হাসিনাসহ তার দলের কোনো বক্তব্য বা বার্তা প্রচারের সুযোগ নেই। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলেও সরকার সতর্ক করেছে।
সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার সংবাদমাধ্যমকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে ভিন্নমত স্তব্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার সহকারী আবু ওবায়দা আরিন নিশ্চিত করেছেন যে, সকল বাধা সত্ত্বেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ওই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হলেও তিনি এই রায়কে আইনত অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
