রংপুর থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা: সরকারের সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে না বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে তাদের দল এবং ১১ দলীয় ঐক্য যৌথভাবে ওই কমিটি বয়কট করেছে।
শনিবার রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-টু-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি জনগণের রায়কে ভুলে গিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে কথিত সংবিধান সংশোধনের দিকে অগ্রসর হয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে শুধুমাত্র সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয়, তবে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে একটি গুরুতর সাংবিধানিক সংকটে পড়বে। সেই সংকটে যেন পড়তে না হয়, সেজন্যই এনসিপি ও ১১ দলীয় ঐক্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের মূল কথা হলো ভোটাভুটি এবং জনগণের রায় মেনে নেওয়া। বাংলাদেশের জনগণ গণভোটে তাদের রায় প্রদান করেছে এবং সংবিধানে কীভাবে পরিবর্তন হবে তা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে। তাই সংবিধান সম্পর্কিত যেকোনো পরিবর্তন ও সিদ্ধান্ত কেবল সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমেই গ্রহণ করতে হবে।
রংপুরের প্রতি বৈষম্যের তীব্র সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, একদিকে সরকার রংপুরকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেবে না এবং বরাদ্দের নামে বৈষম্য করবে, অন্যদিকে সেই বৈষম্যের সাফাই গাইবে—এটি গণতন্ত্রের কথা হতে পারে না। রংপুরের মানুষ বিরোধী দলকে ভোট দেয় বলেই কি তাদের উন্নত করা হবে না, এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ভিন্নমত থাকতেই পারে, কেউ সরকারি দলকে ভোট দেবে আবার কেউ বিরোধী দলকে ভোট দেবে, কিন্তু জনগণের অধিকার হরণ করা বা বাজেটে কোনো বৈষম্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র সুরক্ষায় যদি এ দেশের মানুষকে আবারও রাজপথে নামতে হয়, তবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নতুনের বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
উক্ত সমাপনী সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।