নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর ইউপি সদস্য আমির সরকার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের কাছ থেকে ফুলেল সংবর্ধনা গ্রহণ করেছেন নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। গত শনিবার দুপুরে আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জব্বার মিয়ার একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই সংবর্ধনা গ্রহণ করেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজক জব্বার মিয়া নিজেও নিহত ইউপি সদস্য আমির সরকার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরসহ মোট চারটি হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রকাশ পাওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, খোকন মিয়া ও তারা মিয়া নামের দুই ব্যক্তি সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এই দুই ব্যক্তিও আলোচিত আমির সরকার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, গত বছরের ২২ এপ্রিল আলোকবালীতে ইউপি সদস্য আমির সরকারকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তারা মিয়া ও খোকন মিয়াসহ বারো জনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ প্রশাসনের কাগজপত্রে এই আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন।
পুলিশের নথিতে পলাতক থাকা আসামিরা কীভাবে কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়া প্রকাশ্যে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা দিলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র প্রশ্ন ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সংসদ সদস্য কি তবে অপরাধীদের আশ্রয়দাতা হচ্ছেন অথবা তাদের অপরাধের সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন? কীভাবে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আসামিরা আইনের তোয়াক্কা না করে বীরদর্পে ঘুরে বেড়ান এবং জনপ্রতিনিধির সান্নিধ্য পান, তা নিয়ে তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সরকার বলেন, জব্বার মিয়া হত্যা মামলার আসামি কি না তা আমার জানা নেই এবং আমি তাকে চিনি না। সংসদ সদস্যকে যারা ফুল দিয়েছেন তারাও আসামি কি না আমার জানা নেই, তবে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কাইয়ুম মিয়া কাজটি ঠিক করেননি। এভাবে সংসদ সদস্যকে বিতর্কিত করা মোটেই সঠিক হয়নি উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যাপারে কাইয়ুম মিয়াকে সতর্ক করা হচ্ছে। নৃশংস এই হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং জনপ্রতিনিধির সংবর্ধনা নেওয়ার ঘটনায় নিহত পরিবার ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ অবিলম্বে আসামীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।