বিদেশি স্ক্যামারদের নতুন নিরাপদ আশ্রয়স্থল কি বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে দেড় মাস ধরে অবস্থান করে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ চালিয়ে আসছিলেন ৬৩ জন বিদেশি নাগরিক। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাইবার অপরাধবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ার কারণে তারা বাংলাদেশকে কার্যক্রমের নতুন ঘাঁটি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

লাওস, ভিয়েতনাম, নেপাল ও চীনে স্ক্যামিংয়ের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চলার প্রেক্ষাপটে এই বিদেশিরা বাংলাদেশে এসে আস্তানা গেড়েছিলেন। তবে এই দেশকে চক্রের প্রধান কেন্দ্র বা হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় এই প্রতারণায় যুক্ত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তদন্তের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পেরেছে যে, খুলশীর এই ফ্ল্যাটটি তাদের একমাত্র ঠিকানা ছিল না এবং এর আগে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করেছিলেন। এছাড়া কক্সবাজারে সম্প্রতি এক হাজার নয়শত আটটি আইফোনসহ ছয় চীনা নাগরিক গ্রেপ্তারের ঘটনার সঙ্গে এই দলের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে।

অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার করা একশত একান্নটি ব্যবহৃত ডিভাইসসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের ফরেনসিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে তাদের ব্যবহৃত ওয়েবসাইট, অ্যাকাউন্ট এবং দেশি-বিদেশি যোগাযোগের তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

এই সংঘবদ্ধ আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত দেশীয় সহযোগীদের ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং পলাতক ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের নেটওয়ার্কের গভীরতা এবং তাদের বাংলাদেশে নিয়ে আসার নেপথ্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে জোরদার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

০%
০%
০%
০%