শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী চলমান পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে খাল পরিষ্কার ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়েছে। পরে জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ এবং গ্রাম পুলিশদের মাঝে পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোসাইরহাট পৌরসভার জমাদ্দার বাড়ির সেতু থেকে সবুজ ছাতা পর্যন্ত খালের ময়লা-আবর্জনা অপসারণের মধ্য দিয়ে এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়।
সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ অভিযান ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোসাইরহাটে স্থানীয় পর্যায়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু নিজ হাতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
গোসাইরহাট পৌরসভা প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওশাদ হাসানের দায়িত্বে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাল এবং এর আশপাশের এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়।
এ সময় সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য আসন-৩৩-এর সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পুকুরে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় উন্মুক্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়। এ সময় পোনা মাছ অবমুক্ত করেন হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু। উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
এরপর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘গোসাইরহাট উপজেলায় গ্রাম পুলিশদের মাঝে পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ-২০২৬’ কর্মসূচি।
কর্মসূচিতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের হাতে পোশাক ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী তুলে দেন হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু ও সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত। উপজেলা প্রশাসন, গোসাইরহাট, শরীয়তপুরের আয়োজনে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।