AdvertisementAdvertisement

মাতারবাড়ীতে বেড়িবাঁধ ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কে উপকূলবাসী টেকসই বাঁধের দাবি

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের সাইরার ডেইল এলাকায় সমুদ্রের তীব্র জোয়ার ও ভাঙনের কবলে পড়ে বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও সাগর উত্তাল থাকায় বাঁধের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় উপকূলীয় জনপদ ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, লবণচাষ, চিংড়ি ঘের ও বসতভিটার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করতে পারে।

জনদুর্ভোগের বিষয়টি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এ সময় তিনি ভাঙনকবলিত বাঁধের নাজুক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়দের সাথে কথা বলে তাদের দুর্দশার কথা শোনেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাইরার ডেইল এলাকার দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এ সময় কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী উপস্থিত থেকে বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার করা অপরিহার্য। তিনি কেবল অস্থায়ী মেরামতের ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই ও মানসম্মত বাঁধ নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলীয় অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দীর্ঘদিন ধরে বাঁধের দুর্বল অংশগুলোতে কার্যকর সংস্কারের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের মতে, প্রতি বর্ষা মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ায় অস্থায়ীভাবে মেরামত করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, যা প্রতি বছরই নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি করে। লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকলে ফসলি জমি ও চিংড়ি ঘেরের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক প্রকৌশল নকশায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এখন জরুরি। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো দ্রুত প্রকৌশলগত মূল্যায়ন করে জরুরি সংস্কার কাজ শুরু করবে এবং স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে উপকূলের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের।

0%
0%
0%
0%