AdvertisementAdvertisement

স্থবিরতায় ধুঁকছে ময়মনসিংহের কড়ইতলী ও গোবরাকুড়া স্থলবন্দর অনিশ্চয়তায় হাজারো কর্মজীবী

ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার কড়ইতলী ও গোবরাকুড়া স্থলবন্দর এখন গভীর স্থবিরতায় নিমজ্জিত। একসময়ের কর্মচঞ্চল এই বন্দর দুটি এখন ভুতুড়ে নীরবতায় আচ্ছন্ন, যেখানে বাণিজ্যের বদলে কেবল অনিশ্চয়তা বাসা বেঁধেছে। ভারতীয় কয়লা আমদানির ওপর বারবার নিষেধাজ্ঞা, আইনি জটিলতা এবং পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বন্দর দুটির ভবিষ্যৎ এখন চরম হুমকির মুখে।

একসময় যে বন্দর দুটি থেকে বছরে শত কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায় হতো, তা বর্তমানে তলানিতে ঠেকেছে। বাণিজ্যের এই শোচনীয় অবস্থার প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় বন্দর দুটির পৃথক কার্যক্রম বন্ধ করে একটি স্থানে প্রশাসনিক কার্যক্রম সংকুচিত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে মাত্র দুজন সহকারী ট্রাফিক পরিদর্শক দিয়ে নামমাত্র সেটআপে চলছে বন্দরের দাপ্তরিক কার্যক্রম।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

১৯৭৯ সালে কড়ইতলী এবং ১৯৯৭ সালে গোবরাকুড়া শুল্ক স্টেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এগুলোর স্থলবন্দরের মর্যাদা প্রাপ্তি ঘটে। এরপর প্রায় ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করে ২০২৩ সালের ১১ মার্চ সেগুলোকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে ভারত থেকে কয়লা আমদানিতে আইনি জটিলতা ও মেঘালয় রাজ্যের কড়া শর্তের কারণে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে স্থানীয়দের।

আমদানিকৃত কয়লার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিকারকরা এলসি খুলতে আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন শত শত আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। ব্যাংক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এখন তারা চরম বিপর্যয়ের মুখে দিন কাটাচ্ছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বন্দরকেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহ করা প্রায় সাত থেকে আট হাজার লোড-আনলোড ও পরিবহন শ্রমিকের পরিবারে নেমে এসেছে মানবিক বিপর্যয়। শ্রমিক নেতা নুরুজ্জামান শেখের ভাষ্যমতে, কর্মহীনতার কারণে বর্তমানে শ্রমিকদের ঘরে চুলা জ্বলার মতো অবস্থাও নেই। এমন পরিস্থিতিতে বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতির চাকা সচল করতে সরকারি উদ্যোগের অভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ বন্দর দিয়ে গবাদিপশু, মাছের পোনা ও ফলমূলসহ ২৭টি পণ্য আমদানির অনুমতি দিলেও প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ-সুবিধা এখানে অনুপস্থিত। ফলে অনেক পণ্যই আমদানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কড়ইতলী কোল অ্যান্ড কোক ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জানান, শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ আধুনিকায়ন নয়, ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল বন্দর দুটিকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। অন্যথায়, বেকারত্বের সুযোগে সীমান্তবর্তী এ জনপদ মাদক ও চোরাচালানের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

0%
0%
0%
0%