AdvertisementAdvertisement

মঙ্গার গ্রাম থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রাণকেন্দ্রে তারাগঞ্জের ঘনিরামপুর

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রাম একসময় দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও মঙ্গার অভিশাপে জর্জরিত ছিল। বছরের অধিকাংশ সময় কাজের সন্ধানে পুরুষদের ভিন জেলায় পাড়ি দিতে হতো, আর নারীরা গৃহকোণেই সীমাবদ্ধ থাকতেন। তবে সেই চিত্র এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বর্তমানে এই গ্রামটি কেবল কর্মসংস্থান নয়, বরং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল মডেলে পরিণত হয়েছে।

তারাগঞ্জ সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের পাশে সাড়ে ৯ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে রপ্তানিমুখী জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস’। প্রবাসফেরত দুই ভাই প্রয়াত সেলিম ও হাসানুজ্জামান হাসানের আড়াইশ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানায় বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার মানুষ কর্মরত, যার ৮০ শতাংশই নারী। তাদের দক্ষ হাতে তৈরি আন্তর্জাতিক মানের সিনথেটিক জুতা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও তুরস্কসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে রপ্তানি হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কারখানাটি চালুর ফলে বদলে গেছে স্থানীয়দের সামাজিক বাস্তবতা। আগে ঢাকা বা বড় শহরে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও যারা সচ্ছলতা পাননি, এমন ৫১০ জন শ্রমিক নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ পেয়ে ফিরে এসেছেন। কর্মীরা এখানে মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসাসেবা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন। নিজের উপার্জনে সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা ও সঞ্চয়ের সুযোগ পেয়ে অনেক নারী আজ আত্মনির্ভরশীল।

প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার জোড়া জুতা উৎপাদিত হচ্ছে। কারখানার সম্প্রসারণকাজ সম্পন্ন হলে এখানে প্রায় ৩৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মানসম্মত উৎপাদনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি রূপালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ রপ্তানিকারকের মর্যাদা অর্জন করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসানুজ্জামান হাসান জানান, গ্রামের মানুষের জন্য গ্রামের মাটিতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা তাদের কাছে বড় প্রাপ্তি। অদূর ভবিষ্যতে দৈনিক ৫০ হাজার জোড়া জুতা উৎপাদনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারেও ব্যবসার পরিধি বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

0%
0%
0%
0%